সুদানের শরণার্থীদের বহনকারী নৌকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। লিবিয়া উপকূলের কাছে গত রোববার ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় নৌকাটিতে ৭৫ জন সুদানি শরণার্থী ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ২৪ শরণার্থীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আইওএমের কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই শরণার্থীরা লিবিয়া হয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।
আরব নিউজের খবরে বলা হয়, গত আগস্টেই ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবিতে কমপক্ষে ৬৮ জন শরণার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনায় শতাধিক অভিবাসন প্রত্যাশী নিখোঁজ হন বলে জানিয়েছিল আইওএম। একই মাসে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছে দুটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৭ জন মারা যান। এর আগে জুনে লিবিয়া উপকূলে দুটি জাহাজডুবির ঘটনায় অন্তত ৬০ জন শরণার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশী নিখোঁজ বা সমুদ্রে ডুবে মারা যান।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত বছরেই ভূমধ্যসাগরে অন্তত দুই হাজার ৪৫২ জন শরণার্থী ও অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী রুট হিসেবে পরিচিত।
সংস্থাটির লিবিয়া শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ‘সমুদ্রে এমন ট্র্যাজেডি রোধে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।’ আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লিবিয়ায় ৪৪টি দেশ থেকে অন্তত আট লাখ ৬৭ হাজার ৫৫ জন অভিবাসী অবস্থান করছেন।
২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত আন্দোলনে তৎকালীন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপমুখী শরণার্থী ও অভিবাসীদের প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে অসংখ্য মানুষ।
গাদ্দাফির আমলে আফ্রিকার বহু মানুষ লিবিয়ার তেলসমৃদ্ধ অর্থনীতিতে কাজের সুযোগ পেতেন। কিন্তু তার পতনের পর থেকে দেশটিতে সরকার বিরোধী মিলিশিয়াদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চলছে।


