লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ তৎপরতায় বুধবার তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আওএম) সক্রিয় সহযোগিতায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার তারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রত্যাবাসিত এই বাংলাদেশিদের অধিকাংশই উন্নত জীবনের আশায় মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে তারা কেবল আটকই হননি, বরং অনেকের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও অপহরণের মতো দুঃসহ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান। বিমানবন্দরের ‘প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক’ থেকে ফিরে আসা নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সকল দাপ্তরিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
আইওএম’র পক্ষ থেকে এই নাগরিকদের তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে যাতায়াত ভাতা বাবদ ছয় হাজার টাকা, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের এই তিক্ত ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ অবৈধ পথে লিবিয়া বা ইউরোপ যাত্রার ঝুঁকি না নেন।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনো অনেক বাংলাদেশি আটকে রয়েছেন। তাদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো আইওএম’র সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


