লালমনিরহাটে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগে তিস্তাপাড়ের মানুষ

লালমনিরহাটে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগে তিস্তাপাড়ের মানুষ
তিস্তার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। ছবি: ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি চার দিন ধরে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলায় দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলী জমি, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে তিস্তার পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার নিচে নামলেও, এখনও পানিবন্দি মানুষদের দুর্ভোগ কমেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবে) ডালিয়া পয়েন্টে এদিন দুপুর ২টায় পানি রেকর্ড করা হয় ৫১.৯২ মিটার, যা বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে গত সোমবার রাত থেকে উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। পরদিন মঙ্গলবার  দুপুরে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে এবং টানা চার দিন ধরে তা বিপৎসীমার ওপরে ছিল।

লালমনিরহাটের সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বন্যাকবলিত এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে- পাটগ্রামের দহগ্রাম; হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী, নোহালী; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্দ্ধন, বাহাদুরপাড়া এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়ন।

তিস্তার প্লাবনে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। ছবি: টাইমস

চার দিনের বন্যায় এসব এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও খেত-খামার পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষজন আশ্রয় নিয়েছে রাস্তা, বাঁধ ও উঁচু স্থানে। গবাদিপশু, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।

আরও পড়ুন

গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ মিয়া বলেন, ‘চারদিন ধরে ঘরে পানি। নদী যেন গর্জে উঠেছে। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি।’

গড্ডিমারী গ্রামের গৃহবধূ সালমা বেগম বলেন, ‘বাড়িতে কোমর পানি। রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। রান্না, খাওয়া, থাকা- সবই এখন দুঃস্বপ্নের মতো।’

বন্যার পানি কিছুটা কমলেও দেখা দিয়েছে নতুন দুর্ভোগ। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিচ্ছে পানিবাহিত রোগ। বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের সংকট তৈরি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি বেড়ে বন্যা দেখা দেয়। এখন পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষদের মাঝে শুকনো খাবার ও জিআর চাল বিতরণ করা হচ্ছে। আরও সহায়তার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad