লালমনিরহাটে পরেশ চন্দ্রের ঘটনা ‘দশ টাকা’ কেন্দ্র করে!

লালমনিরহাটে পরেশ চন্দ্রের ঘটনা ‘দশ টাকা’ কেন্দ্র করে!
Advertisement
Advertisement

লালমনিরহাটে পরেশ চন্দ্র ও বিষ্ণু চন্দ্র শীলের ঘটনার সূত্রপাত ‘দশ টাকা’ পাওনাকে কেন্দ্র করে, এমনটাই অভিযোগ পরিবারের। পরিবারের দাবি, স্থানীয় ভূষির দোকানের কর্মচারী নাজমুল পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

রোববার, ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে লালমনিরহাট শহরের হানিফ পাগলার মোড়ে পরেশ চন্দ্র শীল (৬৯) ও তার ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র শীলকে (৩৪) মারধর করে একদল ‘সংঘবদ্ধ লোক।’ পরে বাবা-ছেলে দুজনকেই পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। এ ঘটনায় আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন পরেশের পরিবার।

টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি শহরের পূর্ব সাপটানা এলাকায় সরেজমিনে দেখতে পান, খালি পড়ে আছে পরেশের বসতবাড়ি। পুনরায় হামলা হতে পারে-এমন আশঙ্কায় নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে পারছেন না তারা। ওই ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরেও বিরাজ করছে আতঙ্ক।

দশ টাকা থেকে ‘মব সন্ত্রাস’

কারাগারে আটক বিষ্ণু চন্দ্র শীলের স্ত্রী দীপ্তি রাণী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, তিনি জেলখানায় তার শ্বশুর পরেশের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরেশ দীপ্তি রাণীকে জানিয়েছেন, শুক্রবার স্থানীয় পাগলার মোড়ের আবদুল মজিদের ভূষির দোকানের কর্মচারী নাজমুল পরেশের সেলুনে চুল কাটতে আসেন। চুলকাটা শেষে পাওনা টাকার চেয়ে ১০ টাকা কম দিতে চাইলে বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরেশকে দেখে নেবার হুমকি দেন নাজমুল।

আরও পড়ুন

পরিবারের অভিযোগ, দুইদিন পর রোববার গোশালা বাজার মসজিদের কিছু মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে পরেশের দোকানে আসে নাজমুল। অতর্কিত ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ পরেশ ও তার ছেলের ওপর হামলা চালায়। পরে পরেশের বাড়িতেও আবার হামলা হয়।

পরেশ চন্দ্র শীলের ছোটভাই বিপুল চন্দ্র শীল টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘শুক্রবার যদি আমার ভাই কোনো কটূক্তি করে থাকে, তাহলে রোববার কেন নাজমুল অভিযোগ করে গুজব ছড়াবে? যদি অন্যায় করে তার জন্য দেশে আইন আদালত আছে, পরেশ কটূক্তি করলে বিষ্ণু কেন গ্রেপ্তার হবে?’

পরেশের দীর্ঘ দিনের বন্ধু ও প্রতিবেশী রনজিৎ কুমার বলেন, ‘পরেশের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ নেই। ঘটনার পর থেকে আমরাও আতঙ্কে আছি’ সে কখনো কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলার লোক নয়- বলে যোগ করেন তিনি। ঘটনার সঠিক তদন্ত চেয়েছেন পরেশের পরিবারের সদস্যরা।’

ঘটনার পর থেকে লালমনিরহাটের হানিফ পাগলার মোড়ে ভুক্তভোগীর সেলুনে নিয়মিত পুলিশ পাহারা রয়েছে। বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন রংপুর রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, লালমনিরহাট পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, লালমনিরহাট সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আমির।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করছে পুলিশ। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad