কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের কাউনিয়ারচরে ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখা খালের মধ্যে ভেঙে পড়ে আছে পাকা সেতু, তার উপরে কাঠের নড়বড়ে সেতু। প্রায় দুই যুগ ধরে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই এই কাঠের সেতু পারাপার হয় ১৫ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার পর থেকে খালের উপর একটি বাঁশের সাঁকো ছিল। পরে সরকারিভাবে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রায় দুই যুগ আগে বন্যায় সেটি ভেঙে গেলে তখন থেকেই পরিত্যক্ত হয়ে যায় পাকা সেতু।
পরে আবারও বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে গ্রামবাসী। সর্বশেষ সেখানে ভেঙে পড়া পাকা সেতুর উপর সরকারি উদ্যোগে নির্মান করা হয় কাঠের সেতু, যার অবস্থাও এখন শোচনীয়।
অতিমাত্রায় ব্যবহারের ফলে কাঠের সেতুটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে প্রতিবছর। কখনো স্থানীয় প্রশাসন, কখনো এলাকাবাসী কাঠের সেতুটি কিছুটা মেরামত করে চলাচল করে আসছেন প্রায় দুই যুগ ধরে। ফলে ওই এলাকার কৃষকের উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারজাত করা যায় না। কঠিন হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত। জরুরি মুহূর্তে মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে পোহাতে হয় সীমাহীন ভোগান্তি।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কাঠের সেতুতে পথচারী উঠলেই সেটি দোলে ওঠে। প্রতিদিন এই কাঠের সেতু দিয়েই চলাচল করে চর কাউনিয়ারচর, চর গয়টাপাড়া, পারেরচর, গাছবাড়ি, ইটালুকান্দা, ভেড়ামারা, ডিক্রিরচর, আনন্দবাজার, লাউবাড়ি হাট, শাডিমারী, বাংলা বাজার হাট ও সাহেবের আলগা গ্রামের মানুষজন।
এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখ্যযোগ সাহেবের আলগা বিওপি। কাঠের সেতু নড়বড়ে হওয়ার কারণে এই বিওপির বিজিবি সদস্যরা সময়মতো সীমান্তে পৌঁছতে পারেন না।
স্থানীয় কৃষক আমির মিয়া বলেন, আধা ভাঙ্গা কাঠের সেতু দিয়ে কোনো গাড়ি পার করা সম্ভব হয় না। তাই মাথায় করে বাজারে নিয়ে যেতে হয় কষ্ট করে উৎপাদন করা ফসল। পাইকারদের কাছে বিক্রি করলে তারা অনেক রাস্তা ঘুরে নিয়ে যায় বলে দাম কম দেয়।
মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকিয়া আক্তার বলেন, কাঠের সেতুর একপাশে মটর সাইকেল বা খালি ভ্যান ওঠলে সেটা পার না হওয়া পর্যন্ত আরেক পাশে অপেক্ষা করতে হয়। এতে করে স্কুলে যেতে দেরি হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সাইদ জানান, পাকা সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য অনেক চেষ্টা করার হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কাঠের সেতুতে চলাচল করে।
উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ কুমার সাহা জানান, সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।


