কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সোমবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সংযোগ থাকায় জেলা প্রশাসকরা এ দুই খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ঋণ সুবিধা, প্রণোদনা এবং বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। দেশের প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় দেশি মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় গ্রামভিত্তিক মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কীটনাশকের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কীটনাশক ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তা চাষসহ বিকল্প কৃষি উদ্যোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি চিংড়ির পোনা উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং আমদানির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা মাঠ প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকরা দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে।
জেলেদের সহায়তায় নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির পাশাপাশি সম্প্রতি প্রায় ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে দুই মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো আব্দুল বারী, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো দেলোয়ার হোসেন এবং খাদ্য সচিব আবু তাহের মো মাসুদ রানাসহ অন্যরা।


