চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার ৮৪১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এবারের বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে নগরের মশক নিধন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সড়ক উন্নয়ন খাতে।
অন্যদিকে, বাড়ানো হচ্ছে পৌর কর ও সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের ভাড়া। দ্বিগুণ করা হয়েছে বিজ্ঞাপন কর। তবে অর্ধেকে নামানো হয়েছে শেষকৃত্যের খরচ।
এ বছরের বাজেটের চমক হলো রিকশা। রিকশার লাইসেন্স ফি থেকে আয় ৫ হাজার ৬৫০ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এই খাতে আয় ছিল মাত্র ১০ লাখ টাকা। এ বছর আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
বুধবার নগরভবন মিলনায়তনে এই বাজেট ঘোষণা করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া।
বাজেটে পৌর করের লক্ষ্যমাত্রা ৫৬০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কোটি, সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের ভাড়া ৬ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি এবং বিজ্ঞাপন কর থেকে আয় ১২ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটিতে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। তবে কবরস্থান ও শ্মশানঘাটের ওপর থেকে আয়ের লক্ষ্য গত বছরের ৮ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে এবার ৪ কোটিতে নামানো হয়েছে। এমনকি পাবলিক টয়লেট ইজারা থেকেও আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
এ বছরের ব্যয়ের খাত হিসেবে গত বছরের তুলনায় ১৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে নগরের সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৬৫ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ১০ শতাংশ। নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে বরাদ্দ গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ করে এবার ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি ২০ লাখ, যা বাজেটের ২ শতাংশ।
জলাবদ্ধতা নিরসনে গত বছরের ৫০ কোটির বরাদ্দ এবার বেড়ে হয়েছে ৭৫ কোটি। খাল উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন খাতে মোট বরাদ্দ হয়েছে ১১৫ কোটি, যা বাজেটের ৩ শতাংশ। এ ছাড়া মশক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মোট ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা এবারের বাজেটের ২ শতাংশ।
এবারের ৩ হাজার ৮৪১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বাজেটে আয়ের সর্বোচ্চ খাত ধরা হয়েছে ডিএসসিসি, সরকারি ও বৈদেশিক উৎসকে। এসব খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ১ হাজার ৪৬৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এরপর রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩২০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে উন্নয়ন খাতে, গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ করে এবার মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৪৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ডিএসসিসি, সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তা উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৬৯ কোটি ২৪ রাখ টাকা।
বাজেট প্রকাশের অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক জনাব মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘বাস্তবায়নযোগ্য যৌক্তিক বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। নগরবাসীর ওপর অতিরিক্ত করারোপ না করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, ডিএসসিসি সচিব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।


