রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল ইউক্রেন ফেরত নিতে সক্ষম: ট্রাম্প

রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল ইউক্রেন ফেরত নিতে সক্ষম: ট্রাম্প
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

রাশিয়ার কাছে হারানো সব অঞ্চল ইউক্রেন ফেরত নিতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ইউক্রেন রাশিয়াকে প্রতিহত করে তাদের সব সম্পদ ফিরিয়ে নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে (সাইডলাইন) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এবারই প্রথম কোনো বৈঠকে সরাসরি কেবল ইউক্রেনের হয়ে কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও  অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) জানায়, বৈঠক শেষে ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমি ভালোভাবে বুঝতে পারছি। রাশিয়ার ওপর এই যুদ্ধ যে পরিমাণ অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে, আমি মনে করি- ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ইউক্রেন লড়াই করলে পুরো ইউক্রেনই তারা ফেরত পেতে সক্ষম।’

রাশিয়ার প্রতি পরোক্ষ হুঁশিয়ারি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার অর্থনীতি আরও দুর্বল হলে ইউক্রেন “তাদের দেশকে মূল রূপে ফিরে পাবে। কে জানে, হয়তো আরও এগোতেও পারে!’

ট্রাম্প একাধিকবার বলেন, ‘পুতিন ও রাশিয়া “বড় অর্থনৈতিক সমস্যায়” রয়েছে। এটাই এখন ইউক্রেনের জন্য কাজ করার উত্তম সময়।’ ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা ঘোষণা না করলেও ট্রাম্প বলেন, ‘ওয়াশিংটন ন্যাটোকে অস্ত্র বিক্রি করবে। ন্যাটো তা দিয়ে যা খুশি তাই করতে পারে।’

জেলেনস্কি ট্রাম্প বৈঠক
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এপি/ইউএনবি

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে একক সংবাদ সম্মেলন করেন জেলেনস্কি। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ট্রাম্প তাকে রাশিয়ার অর্থনৈতিক দুর্দশা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যও দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা কিছু তথ্য দিয়েছি, আর তিনি (ট্রাম্প) আমাদের আরও কিছু বিস্তারিত জানিয়েছেন। রাশিয়ার অর্থনীতি খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। আরও খারাপ দিক হলো- তাদের কাছে এখনও তেল বিক্রি করে কিছু নগদ অর্থ লাভের সুযোগ আছে। তবে সে সম্ভাবনা দিনকে দিন কমছে।’ এসময় রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা থেকে বিরত থাকতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কৌশলগত অবস্থানের বিষয়ে আলোকপাত করে জেলেনস্কি বলেন, ‘ট্রাম্প এখন যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালোভাবে বোঝেন এবং পুতিনকেও তিনি এখন ভালোভাবে মাপতে পারেন।’ তিনি আশঙ্কা করেন, ইউক্রেনের সঙ্গে পেরে না উঠলে পুতিন ইউরোপের দুর্বল জায়গা খুঁজে আক্রমণ চালাতে পারে। ট্রাম্পও এমন গোয়েন্দা ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানান জেলেনস্কি।

তবে ট্রাম্প-জেলেনস্কির এবারের বৈঠকও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষণে ক্ষণে অবস্থান পাল্টানো নিয়েও চলছে কড়া সমালোচনা। গত ফেব্রুয়ারিতে জেলেনস্কির সঙ্গে ঐতিহাসিক ওভাল অফিসের বৈঠকে ট্রাম্প রাশিয়ার পক্ষ নিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমাদের কাছে এই যুদ্ধ নিজেদের পক্ষে শেষ করার মতো কোনো কার্ড নেই।’

কিন্তু মঙ্গলবার জেলেনস্কি ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দুই দলের অবস্থান এখন অনেক শক্তিশালী। আগে আমরা এতটা কাছাকাছি ছিলাম না।’ ট্রাম্পের অবস্থান বদলের বিষয়টিও অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, ট্রাম্পের অবস্থান বদলেছে; সৃষ্টিকর্তার রহমত এভাবেই থাকুক।’

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষিত ‘সম্পূর্ণ ইউক্রেন পুনরুদ্ধার’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে কিয়েভকে ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া ও ডনবাসের অংশগুলোও ফিরিয়ে আনতে হবে। যা কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে জটিল ও বড় সিদ্ধান্ত। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের প্রথমদিকে আক্রমণের পর থেকে রাশিয়া কোনো বড় ভূতাত্ত্বিক অগ্রগতি করতে না পারলেও দখলকৃত অঞ্চল সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করে চলেছে।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad