‘এস আলম গ্রুপের’ চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ২০১৭ সাল থেকে ‘যোগ্যতার মূল্যায়ন’ ছাড়াই আট হাজার ৩৪০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । এই ‘অযোগ্য ও অদক্ষ জনবলের’ বেতন-ভাতা বাবদ দেশের সর্ববৃহৎ শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকটির বছরে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রন নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম। অভিযোগ, এরপর থেকে ধাপে ধাপে নামে-বেনামে ঋণের আড়ালে ব্যাংকটি থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বের করে নেয় বিতর্কিত গ্রুপটি; যার বেশিরভাগই পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
ইসলামী ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকটিতে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর গ্রুপটির চেয়ারম্যান তার এলাকার ‘অদক্ষ ও অযোগ্য’ লোকদের কোন ধরনের ‘নিয়োগ পরীক্ষা বা যোগ্যতা যাচাই’ ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরিতে নিয়োগ দেন। এদের অনেকের সনদও জাল।
ইতোমধ্যে অনেক ‘ভুয়া সার্টিফিকেটধারিকে’ চাকরিচ্যূত করেছে ইসলামী ব্যাংক। পাশাপাশি ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের’ যোগ্যতা মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে তারা। অভিযুক্তদের যোগ্যতা পূনর্মূল্যায়নের জন্য সম্প্রতি ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা’ নেওয়া হয়। তবে প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মকর্তা এতে অংশ না নিয়ে নেমেছেন আন্দোলনে।
ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে এই অংশ ‘অপপ্রচার’ চালানোর পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দিচ্ছে ‘নানা হুমকি’।
এই পরিস্থিতিতে এস আলমের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা ব্যাংকে ‘সরাসরি আক্রমণ’ কিংবা তাদের দ্বারা ‘ব্যাংকের ক্ষতিসাধনের’ আশঙ্কা করছেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার অভিযোগ, “বিদ্রোহী কর্মকর্তাদের” হাতে এখন কোনো কিছু নিরাপদ নয়।’ এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।


