গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ (রাবেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপস্বর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসাপাতালটিতে হামের উপস্বর্গে মারা গেল ছয় শিশু। এ ছাড়াও এ বিভাগে পরীক্ষার-নিরীক্ষাযর মাধ্যমে ৬০ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
বুধবার বেলা ১২টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম চিকিৎসার বিশেষ কমিটির ফোকালপার্সন ডাক্তার আনম তানভীর চৌধুরী এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসাধীন আবু হুজাইফা নামের পাঁচ মাসের এক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গ নিয়ে এই হাসাপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছয় শিশুর মৃত্যু হলো।
মৃত শিশুটির বাড়ি পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায়। গত শুক্রবার হামের উপসর্গ নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছিল।
মৃত অপর পাঁচ শিশু হলো, ঠাকুরগাঁও সদর এলাকার ৯ মাসের শিশু মনি আক্তার। ১৬ মে দিবাগত রাত ২টাই মারা গেছে। এর আগে, হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ১১ মাস বয়সি জুনাইদ। এরও আগে, মারা যায় লালমনিরহাটের হারহাটি গ্রামের রাকিব মিয়ার ৯ মাসের ছেলে হাসান, কুড়িগ্রামের উলিপুরের সবুজ মিয়ার ২২ মাসের পুত্র জাকির। এ ছাড়া সর্ব প্রথম এই হাসপাতালে হামের উপস্বর্গ নিয়ে ১৮ এপ্রিল মারা যায় লালমনিরহাট সদরের রিয়াজুল ইসলামের সাত মাস বয়সি ছেলে তানজিদ ইসলাম তামিম।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, রংপুর বিভাগে ১ জানুয়ারি থেকে গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৬ জনের পরীক্ষায় ৬০ জনের হাম ও ৬ জনের রোবেলা শনাক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯, নীলফামালীতে ১০ জন, রংপরে পাঁচ, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে চারজন করে, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, পঞ্চগড়ে দুইজন এবং লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা একজন করে শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার বার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ১৬ জন।। এ নিয়ে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৪০৩ জন। এরমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ৩৩৩। ভর্তি আছে ৭০ জন। এরমধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২২ জন। হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে দুইজন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী জানান, ‘আমরা সতর্ক আছি। মাঠ কর্মীরাও কাজ করছেন। উপস্বর্গ দেখা মাত্রই হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিভাগে হামের পরিস্থিতি এখনও ভালো আছে। ভবিষ্যতে কি হবে সেটা বলা যাচ্ছে না।’


