রাজবাড়ীতে কৃষি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি বা টপ সয়েল কেটে অবাধে ইটভাটায় বিক্রি করার মহোৎসব চলছে। এতে একদিকে জমির উর্বরতা হারিয়ে ফসলি জমি আশঙ্কাজনক হারে কমছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে দেশে বড় ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাটিবাহী ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। তবে জনমনে ক্ষোভ থাকলেও মাটিকাটা চক্রের বিরুদ্ধে রহস্যজনকভাবে নীরব প্রশাসন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া মৌজার ১৫৭নং দাগের এক একর ১৫ শতাংশ জমিতে এবার ফুলকপির আবাদ করেছিলেন জমির মালিক রঞ্জু মোল্লা। তার পাশের জমিগুলোতেও কৃষকরা পেঁয়াজ ও রসুনসহ নানা ফসল চাষ করছেন। তবে চলতি জানুয়ারি মাস থেকে বেশি লাভের আশায় রঞ্জু মোল্লা তার ফসলি জমির মাটি প্রভাবশালী একটি চক্রের কাছে বিক্রি করে দেন। চক্রটি চতুরতার সাথে জমির চারপাশে চালা বা বেড়া দিয়ে আড়াল তৈরি করে দুটি ভেকু মেশিন দিয়ে দিন-রাত মাটি কাটছে। প্রতিদিন অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক মাটি যাচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন ইটভাটায়।
এই মাটি টানার ফলে এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার পাকা রাস্তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ড্রাম ট্রাকের দৌরাত্ম্যে ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর ঘরে থাকা খাবার ও আসবাবপত্র ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। জানা গেছে, রঞ্জু মোল্লা ওই চক্রের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পুকুর খননের অনুমতি নিলেও সেখানে দেওয়া কোনো শর্তই মানা হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটিকাটা চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ ভয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।
বিস্ময়কর হলো, গণমাধ্যমকর্মীরা মাটি কাটা এবং রাস্তা নষ্ট হওয়ার ভিডিও চিত্র জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বারবার দিলেও তারা ইটভাটায় মাটি বিক্রির কোনো প্রমাণ পাচ্ছেন না বলে দাবি করছেন। ফলে কোনো আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না। একই চিত্র রাজবাড়ী সদরসহ অন্যান্য উপজেলাতেও দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান, এসিল্যান্ডকে পাঠিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে, কিন্তু ইটভাটায় মাটি বিক্রির কোনো প্রমাণ মেলেনি। তাদের কাছে তথ্য আছে, ওই মাটি পাশের কবরস্থান ও মানুষের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। তবে রাস্তার ক্ষতির জন্য জমির মালিকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, যদি মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


