দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এত বছর পর এই গণতান্ত্রিক উৎসব ফিরে আসায় পুরো ক্যাম্পাস এখন উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা। পোস্টার, ব্যানার, লিফলেটে ঢেকে গেছে একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, টিএসসি, ক্যাফেটেরিয়া ও আড্ডাস্থলগুলো।
প্রার্থীরা দলবদ্ধভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন, হাতে তুলে দিচ্ছেন লিফলেট, করছেন কুশল বিনিময় এবং দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার।
ক্যাম্পাসজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচার। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে নানা ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন প্রার্থীরা। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়াম চত্বর প্রার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর বলেন, ‘আমাদের প্যানেলের বৈচিত্র্যতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা উৎসাহী। বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রতি আস্থা দেখাচ্ছে, কারণ তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আমরাই আন্দোলন করেছিলাম।’
ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ফাহিম রেজাকে দেখা গেছে ক্যাম্পাসের আমতলা, রবীন্দ্র ভবন ও টুকিটাকি চত্বরে প্রচার চালাতে। একইভাবে কৃষি অনুষদ থেকে চারুকলা, টিএসসিসি থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত চলছে বিভিন্ন প্যানেলের প্রচারণা। বামজোট সমর্থিত ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’, ‘আধিপত্য বিরোধী ঐক্য’ ও ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’-এর প্রার্থীরাও সমান উৎসাহে শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া সিদ্দিকী রিমি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর রাকসু নির্বাচন হচ্ছে, এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। ক্যাম্পাসে এমন প্রাণবন্ত পরিবেশ আগে কখনো দেখিনি। আমি চাই প্রতিবছরই যেন এ নির্বাচন নিয়মিতভাবে হয়।’
ফাহিম রেজা বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি, তাদের সমস্যা শুনছি। ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে কেউ ভোট দিতে পারেনি, এবার অনেক শিক্ষার্থী জীবনের প্রথম ভোট দেবে। আমাদের প্রধান অঙ্গীকার হলো–আবাসন সংকট সমাধান ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা।’
বামজোটের ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’-এর ভিপি প্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের লিফলেট গ্রহণ করছে, আমাদের সংগ্রামকে জানছে। আমরা কম সংখ্যক লোক নিয়ে কাজ করছি, কিন্তু শিক্ষার্থীরা আমাদের আন্তরিকতা উপলব্ধি করছে।’
রাকসু নির্বাচনে এবার ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮ জন, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে ১৬ জন প্রার্থী। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বামজোটসহ মোট ১১টি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে ৫৮ জন এবং ১৭টি হলে হল সংসদ নির্বাচনের ১৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৫৯৭ জন প্রার্থী।
এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১৬ অক্টোবর এবং ভোট গণনা শেষে সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।


