গত ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদীচী এবং নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবীরের ওপর হামলার ঘটনাকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী আক্রমণ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ।
তিনি বলেন, এসব হামলা উদ্দেশ্যহীন উশৃঙ্খলতা নয়, বরং সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী আক্রমণ। অল্পসংখ্যক হামলাকারী প্রকাশ্যে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও পুলিশ ও সেনাবাহিনী উপস্থিত থেকেও নিষ্ক্রিয় ছিল।
বুধবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘সন্ত্রাসী হামলা’র প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশের আগে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করেনি এবং কেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নীরব ছিল।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার উসকানি দেওয়া হচ্ছিল, যা গোয়েন্দা সংস্থার অজানা থাকার কথা নয়।
তার মতে, যাদের ওপর হামলা হয়েছে তারা মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
সমাবেশে সংগঠকরা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে শরীফ ওসমান হাদি, দীপু চন্দ্র দাশ ও আয়শা আক্তার হত্যাকাণ্ডসহ সব মব ও সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, উসকানিদাতাদের শাস্তি, মতপ্রকাশের অধিকার ও জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অপসারণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন।
সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য, নীলক্ষেত ও কাঁটাবন হয়ে উদীচী কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।


