দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এফ নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২৮ হাজার ৯০৯ শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২০ হাজার ১৮৭ জন।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা তাদের জানিয়েছেন, এত স্বচ্ছ নির্বাচন তারা আগে কখনো দেখেননি।’
এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নয়টি ভবনে ১৭টি হলের কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। বড় ধরনের অনিয়ম বা গোলযোগ ছাড়াই অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের ফল গোনার প্রক্রিয়ায় আছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, ‘ভোট গণনার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ব্যালট বাক্স খুলে আলাদা রঙয়ের (হল, রাকসু ও সিনেট) ব্যালটগুলোকে ১০০টি করে বান্ডেল করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ব্যালট মেশিনে দেওয়া হবে এবং তৃতীয় ধাপে ৪৩ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল পুনরায় প্রাপ্ত ফল যাচাই করবেন। এরপর ফল ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ফল ঘোষণার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে একটি একটি করে হলের ফল প্রকাশ করা হবে এবং প্রত্যেকটি হলের ক্ষেত্রেই এই তিন ধাপ অনুসরণ করা হবে।’
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা মেয়েদের হল দিয়ে ভোট গণনা শুরু করব। প্রথম হলটির ফলাফল আমরা একাধিকবার যাচাই করব। সেক্ষেত্রে প্রথম হলের ফল ঘোষণা করতে আমাদের একটু সময় লাগবে।’
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদের ১১টি হলে গড়ে ভোট পড়েছে ৭৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এর মধ্যে শেরে বাংলা ফজলুল হক হলে ভোট পড়েছে ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, শাহমখদুম হলে ৭৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, নবাব আবদুল লতিফ হলে ৬৯ দশমিক ১৮ শতাংশ, সৈয়দ আমীর আলী হলে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ, শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ৭৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, শহীদ হবিবুর রহমান হলে ৭১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, মতিহার হলে ৭৩ দশমিক ২২ শতাংশ, মাদার বখ্শ হলে ৭১ দশমিক ২৫ শতাংশ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ৭৭ দশমিক ৬০ শতাংশ, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ৭১ দশমিক ৬৮ শতাংশ, বিজয় ২৪ হলে ৭৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ,
ছাত্রীদের ছয়টি হলে গড়ে ভোট পড়েছে ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ৷ এর মধ্যে মন্নুজান হলে ৬৭ দশমিক ১১ শতাংশ,
রোকেয়া হলে ৫৯ দশমিক ৬০ শতাংশ, তাপসী রাবেয়া হলে ৬৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৬১ দশমিক ৪৯ শতাংশ, রহমতুন্নেসা হলে ৬০ দশমিক ৭০ শতাংশ, জুলাই ৩৬ হলে ৬৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ।


