রাজধানীর মিরপুরে কেমিক্যাল গোডাউনে লাগা আগুনে নিহত আরও ১০ জনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে বুধবার ছয়টি মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. আয়েশা পারভীন। এ সময় অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাব পরীক্ষক শুভ জয় বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন।
শুভ জয় বৈদ্য টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ১০টি মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। সকলের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য হাড় ও টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বুধবার ছয়টি মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।’
এ ছাড়া মরদেহ দাবিদাররা মালিবাগ সিআইডি ল্যাবে গিয়ে নিজ নিজ নমুনা জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রূপনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুখলেসুর রহমান লস্কর জানান, এদিন যেসব মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তাদের মধ্যে সাতজন অজ্ঞাত। তাদের বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ৪০ বছর। অজ্ঞাতদের মধ্যে একজন নারী ও ছয়জন পুরুষ।’
তিনি আরও বলেন, বাকি তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন–শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মুক্তা বেগম (৩০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার ফারজানা আক্তার (১৫) এবং নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফারজানা আক্তার (১৬)।
মুখলেসুর রহমান আরও জানান, দুই থেকে তিনটি মরদেহের একাধিক দাবিদার পাওয়া গেছে। মরদেহ ও দাবিদারদের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। বুধবার ছয়টি মরদেহের ময়নাতদন্ত ও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদন আসার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে মিরপুর রূপনগরের একটি রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন পাশের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


