রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে শেষ হয়েছে ভোটগ্রহণ। গণনা শেষে জানা যাবে কারা আসছেন রাকসুর নেতৃত্বে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শুরু হয়ে একটানা ভোটগ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হার অত্যন্ত উৎসাহজনক। আগের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন অনুযায়ী এখানে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট কাস্ট হওয়ার আশা করা যায়। ভোটের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
কয়েকজন প্রিসাইডিং অফিসার জানান, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর সাড়ে চার ঘণ্টায় ভোট জমা হয় ৪৭ শতাংশ।
দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, হবিবুর রহমান হলের ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন। যার মধ্যে শেরেবাংলা হলে ৫৫ শতাংশ, সোহরাওয়ার্দী হলে ৩৫ শতাংশ, শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ৪৫ শতাংশ, রহমতুন্নেসা হলে ৫৫ শতাংশ, মাদার বখশ্ হলে ৩৫ শতাংশ, মন্নুজান হলে ৪৫ শতাংশ, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৫৬ শতাংশ, তাপসী রাবেয়া হলে ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন।
রাকসু নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার নয়টি একাডেমিক ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে মোট ৯৯০টি বুথে ভোট দেওয়ার কথা ২৮ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থীর।
এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন।
ভোট গ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন ২১২ জন শিক্ষক। এর মধ্যে ১৭ জন প্রিসাইডিং অফিসার ও বাকিরা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার। এ ছাড়া ৯১ জন কর্মকর্তা পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিতসহ মোট ১১টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২৩টি পদের জন্য প্রার্থী ২৪৭ জন। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮ জন, জিএস পদে ১৩ জন এবং এজিএস পদে ১৬ জন লড়ছেন। বাকি ২০টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২০০ প্রার্থী।
সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে ৫৮ জন এবং ১৭টি হলে হল সংসদের ১৫টি পদের বিপরীতে মোট ৫৯৭ জন প্রার্থী লড়ছেন।
ভোট শেষে রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে গণনা হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে। সর্বোচ্চ ১৭ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।


