আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ঋণগ্রহীতা প্রার্থী সর্বোচ্চ ৯১ জন বিএনপিতে। এর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৬ জন ঋণগ্রহীতা প্রার্থী জামায়াতের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ২৬ জন এবং ইসলামী আন্দোলনেও রয়েছে এরকম ২৩ জন মনোনয়নপ্রার্থী।
তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নের তথ্যানুসারে, বার্ষিক আয়ের চেয়ে ঋণ বেশি এমন প্রার্থীর সংখ্যা বিএনপিতে সবচেয়ে বেশি হলেও আনুপাতিক হারে বিএনপিকে ছাড়িয়ে গেছে জাতীয় পার্টি। বার্ষিক আয়ের চেয়ে ঋণ বেশি এমন সম্ভাব্য প্রার্থীর অনুপাতের হিসেবে জামায়াতের চেয়ে এগিয়ে আছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনার পর- কোনো দলে অন্তত ২০ জন ঋণগ্রহীতা আছে, এমন দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের হিসাব পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএনপির ৯১ জন ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর মধ্যে আয়ের চেয়ে ঋণ বেশি এমন প্রার্থী ৬৯ জন, যা দলটির মোট ঋণগ্রহীতার ৭৫.৮২ শতাংশ। জামায়াতের ৩৬ জন ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর মধ্যে আয়ের চেয়ে ঋণ বেশি এমন প্রার্থী ২৩ জন, যা দলটির মোট ঋণগ্রহীতার ৬৩.৮ শতাংশ। জাতীয় পার্টির ২৬ জন ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর মধ্যে আয়ের চেয়ে ঋণ বেশি এমন প্রার্থী ২০ জন, যা দলটির মোট ঋণগ্রহীতার ৭৬.৯২ শতাংশ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৩ জন ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর মধ্যে আয়ের চেয়ে ঋণ বেশি এমন প্রার্থী ১৭ জন, যা দলটির মোট ঋণগ্রহীতার ৭৩.৯১ শতাংশ।
এছাড়াও গণ অধিকার পরিষদের ৫ জন ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের ঋণের পরিমাণ আয়ের চেয়ে বেশি, এবি পার্টির ৬ জন ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের ঋণের পরিমাণ আয়ের চেয়ে বেশি, নাগরিক ঐক্যতে এই সংখ্যা ৩ জনে ২ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩ জন ঋণগ্রহীতার ৩ জনের ঋণই আয়ের চেয়ে বেশি, খেলাফত মজলিসের ১০ জন ঋণগ্রহীতার মধ্যে আয়ের চেয়ে ঋণ বেশি এমন সম্ভাব্য প্রার্থী ৬ জন।
তবে এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য যারা নির্বানে কমিশনে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তাদের তথ্য বিশ্লেষণ করে ৪ জন ঋণগ্রহীতা পাওয়া গেছে। সেই ৪ জনের মধ্যে আয়ের চেয়ে ঋণ বেশি এমন সম্ভাব্য প্রার্থী দেখা গেছে মাত্র একজনকে।
তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রার্থীদের মধ্যেই উচ্চ অঙ্কের ঋণ সবচেয়ে বেশি। বিএনপির অন্তত ৬ জনের ক্ষেত্রে ঘোষিত ঋণের পরিমাণ শত কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা তাদের বার্ষিক আয়ের তুলনায় শতগুণ বেশি। তবে অন্যান্য দলেরও অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থীর ঋণের মোট পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও, তাদের আয়ের তুলনায় সেই ঋণ দশগুণ থেকে শতগুণ পর্যন্ত বেশি আছে।


