যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে চার৫ নারী ও এক শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়, নাবাতিয়েহ জেলার হাবুশ এলাকায় বসবাসরতদের ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী হামলার আগেই সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে স্বল্প সময়ে অনেকেই নিরাপদ স্থান খুঁজে না পাওয়ায় হামলার শিকার হন। হাবুশে নিহত আটজনের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে।
এ ছাড়া সাইদা জেলার জারারিয়েহ এলাকায় দুই নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। টাইর জেলার আইন বাল এলাকায় নিহত হন আরও একজন। ওই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননের সঙ্গে চলমান তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো হলেও দেশটির ইরানপন্থী সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা।
শনিবার হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানবাহন লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের সময় তাদের একজন সেনা নিহত হয়েছে। এ নিয়ে মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।
বৈঠকে ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকার গুরুত্ব এবং তাদের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে’ বলে জানানো হয়। ক্লিয়ারফিল্ড যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ পর্যায়ের দূতদের মধ্যে বৈঠকের পর প্রথমে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। দুই দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং ১৯৯৩ সালের পর এটিই ছিল তাদের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।
পড়ে ২৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে আরও তিন সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠক ‘খুব ভালো হয়েছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র লেবাননকে ‘হিজবুল্লাহ থেকে নিজেকে রক্ষা’ করতে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও তারা জানিয়েছিল, ইসরায়েল শর্ত মানলে তারাও তা মেনে চলবে।
তবে যুদ্ধবিরতির চলাকালে লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও তার দক্ষিণাঞ্চলের বেসামরিক এলাকায় হামলা অনেকটাই কমে এলেও অন্য এলাকায় এখনো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
৩০ এপ্রিল বৈরুতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে বৈঠক হলে লেবানন ‘পূর্ণ সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, নিরাপদ সীমান্ত, মানবিক ও পুনর্গঠন সহায়তা এবং দেশের প্রতিটি অংশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা পাওয়ার সুযোগ’ পাবে।
ওই বার্তায় জোর দেওয়া হয়, এই নিশ্চয়তা ‘যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমেই’ নিশ্চিত করা হবে।
লেবানন-ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুদ্ধ অবসানে ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি সেনারা এতে সম্মত হওয়ায় আগের সংঘাতের অবসান ঘটে। এরপরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ও ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানোর দাবি করে।
এমন পরিস্থিতিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করলে, এর প্রতিক্রিয়ায় ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়।
এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। মার্চের শুরুর দিকে ইসরায়েলি বাহিনী আবারও দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করে এবং সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম দখল করে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও অভিযানে দুই হাজার ৬৫৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরি সেবাকর্মী রয়েছেন।
অন্যদিকে লেবাননে ১৭ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি, ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর হামলায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।


