ইরানের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জার্মানির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিঙবেইল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি জানান, এই জ্বালানি সংকটের কারণে জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। আইএমএফ ইতিমধ্যেই জার্মানির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২০২৬ সালের জন্য দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জন্য ১ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীল করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সহায়তা দিতে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করছেন ক্লিঙবেইল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যে কোনো সংকট মোকাবিলায় জার্মানিকে আরও বেশি স্বনির্ভর ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে। সূত্র: আল জাজিরাইরান যুদ্ধে জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে জার্মানি

লেবানন ও ইরানে মানবিক সহায়তা কর্মীদের ক্রমবর্ধমান মৃত্যু ও ঝুঁকির বিষয়ে রেডক্রসের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ব্রিটিশ রেড ক্রসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের প্রতিনিধি গ্যাব্রিয়েল কার্লসন জানিয়েছেন, ত্রাণকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, উদ্ধার অভিযানে পাঠানোর আগে কর্মীদের বৈবাহিক অবস্থা বা সন্তান আছে কি না—তা জানতে চাইছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লেবানন রেডক্রস জানিয়েছে, গত রোববার হাসান বাদাউই নামে এক প্যারামেডিক জরুরি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় নিহত হন, যিনি দুই শিশু সন্তানের জনক ছিলেন। চলতি মাসে লেবাননে এটি দ্বিতীয় প্রাণহানির ঘটনা। এ ছাড়া ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে তাদের ৪ জন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন এবং ১৬টি স্থাপনা ও ২১টি উদ্ধারকারী যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও লেবানন রেড ক্রস নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের ১২৫টি অ্যাম্বুলেন্স এখন পর্যন্ত ১১ হাজারেরও বেশি রোগীকে সহায়তা এবং ২২ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরালেবানন ও ইরানে উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে রেডক্রসের উদ্বেগ

ইতালির পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন না করার সিদ্ধান্তের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সারের কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ায়ির লাপিদ। তিনি এই ঘটনাকে বর্তমান সরকারের ‘লজ্জাজনক ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে লাপিদ বলেন, ‘ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি কোনো বামপন্থী বা প্রগতিশীল ইউরোপীয় নেতা নন। তিনি ডানপন্থী রক্ষণশীল শিবিরের এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা তিনি বোঝেন।’ ‘যারা আমাদের স্বাভাবিক মিত্র এবং বন্ধু হওয়ার কথা ছিল, তাদের সামনেও ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে,’ তিনি আরও যোগ করেন। ২০০৬ সালে ইসরায়েল কর্তৃক অনুমোদিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি প্রতি পাঁচ বছর অন্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়িত হয়ে আসছিল। এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং তথ্য প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতার বিধান রয়েছে। মেলোনির নেতৃত্বাধীন ইতালীয় সরকার দীর্ঘকাল ধরে ইউরোপে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছে রোম, যার ফলশ্রুতিতে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাপিদের মতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সারের ‘অস্তিত্বহীন’ কূটনীতি এবং নেতানিয়াহুর ভুল নীতির কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধু হারাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরানেতানিয়াহুকে তুলাধোনা করলেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের হুমকি ইরানকে কোনো সংকটে ফেলবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দর মোমেনি। তিনি জানান, ইরানের প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি জলপথ ও স্থলপথ সীমান্ত রয়েছে, যা এই ধরনের যেকোনো অবরোধের প্রভাব নস্যাৎ করে দিতে সক্ষম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনি ইরানের সীমান্ত সংলগ্ন প্রদেশগুলোর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া আরও সহজতর করেন। সমুদ্রপথে বাধার সৃষ্টি হলে স্থলপথের সীমান্ত ব্যবহার করে বাণিজ্য সচল রাখাই ইরানের বর্তমান লক্ষ্য। একে তিনি মার্কিন অবরোধের হুমকি ‘প্রশমন’ করার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানের ৫ হাজার মাইলেরও বেশি বিস্তৃত সীমান্ত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত থাকার কারণে একক কোনো পথে অবরোধ দিয়ে দেশটিকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন এসকান্দর মোমেনি। সূত্র: আল জাজিরাঅবরোধ মোকাবিলা করা হবে: ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং ইরানের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তিনটি তেলবাহী জাহাজ পার হয়েছে, যা চলমান সংঘাতের মাঝেও সীমিত নৌ চলাচলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত শিপিং তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সংযুক্ত তিনটি ট্যাংকার অবরোধের প্রথম পূর্ণ দিনে প্রণালি অতিক্রম করে। এর মধ্যে কিছু জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকলেও সেগুলো ইরানের বন্দরগামী না হওয়ায় চলাচলে বাধা দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে, যাতে ইরানের জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করা যায় এবং তেহরানকে চাপের মুখে ফেলা যায়। এই অবরোধ মূলত ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোর ওপর প্রযোজ্য, অন্য গন্তব্যের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে এবং শত্রুপক্ষের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং প্রতিশোধের হুমকিও দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট, যেখানে দিয়ে বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে। চলমান সংঘাতের কারণে এখানে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে এবং শত শত জাহাজ আটকে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, তেলের দাম বাড়তে পারে এবং সরবরাহ চেইনে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। সূত্র: আল জাজিরাযুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যে হরমুজ পার হলো তিন জাহাজ

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা প্রশমনে অবরোধ থেকে সরে এসে আলোচনায় ফেরার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া হরমুজ প্রণালি অবরোধের পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রিয়াদ। এতে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোতে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। সেই ধারাবাহিকতায় ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে তোলে, ফলে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ইরানকে চাপ দিতে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়, যা সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। আরব কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইয়েমেন উপকূলসংলগ্ন কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। লোহিত সাগরের এই সংকীর্ণ পথটি সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালঅবরোধ শিথিল করতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব

হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও ইরানের বন্দর অবরোধের পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে শুধু উত্তেজনাই বাড়বে এবং আগে থেকেই নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরও দুর্বল করবে বলে মনে করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ বলে উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত, সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ শুরু হয়েছে। যদিও অবরোধ ভেঙে চীনের ট্যাংকার চলাচল করেছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ উপেক্ষা করে চীনের একটি ট্যাংকার হরমুজ পার হয়েছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’ ও ‘কেপলার’-এর তথ্যে বিষয়টি উঠে এসেছে। সূত্র: আল জাজিরাইরানের বন্দর অবরোধ যুক্তরাষ্ট্রের বিপজ্জনক পদক্ষেপ: চীন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। দেশটির সরকারের এক মুখপাত্র অবশ্য বলেছেন, এটি প্রাথমিক হিসাব, চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রিয়া নোভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। তিনি বলেছেন, স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে অন্য যেকোনো বৈঠকে তেহরানের সঙ্গে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তাসনিম নিউজে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে মোহাজেরানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের আলোচক দল যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছে এবং ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনাতেও যেসব বিষয় তোলা হয়েছে, তার একটি হলো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ।’ ‘ক্ষয়ক্ষতি সাধারণত কয়েকটি স্তরে মূল্যায়ন করতে হয়। সেসব মানদণ্ড বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ক্ষতি বর্তমানে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে’, যোগ করেন তিনি।ইরানের প্রাথমিক যুদ্ধক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার, ক্ষতিপূরণ দাবি করবে তেহরান
হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ থাকা সত্ত্বেও প্রণালি অতিক্রম করেছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার। চীনের মালিকানাধীন ওই ট্যাংকারে আগে থেকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ছিল। এলএসইজি, মেরিনট্রাফিক ও কেপলার প্রতিষ্ঠানের বরাতে এ তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, ‘রিচ স্টারি’ নামের ওই ট্যাংকারটি অবরোধ শুরুর পর প্রথম জাহাজ হিসেবে প্রণালি পার হয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে। আগে ইরানের সঙ্গে লেনদেনের কারণে জাহাজটি এবং এর মালিক প্রতিষ্ঠান সাংহাই শুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সবশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরে অবস্থানকালে জাহাজটি পণ্য বোঝাই করে। এদিকে, আরেকটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ট্যাংকার ‘মুরলিকিশান’ বর্তমানে প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ১৬ এপ্রিল ইরাকে অপরিশোধিত তেল তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। রয়টার্স আরও জানায়, ‘এমকেএ’ নামে পরিচিত ওই জাহাজটি এর আগে রাশিয়া ও ইরানের তেল পরিবহন করেছে।মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভেঙে হরমুজ পার হলো চীনের ট্যাংকার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পরও ইরানের তেল বিক্রি ‘স্বাভাবিক’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘মার্চ এবং এপ্রিলেও আমাদের তেল রপ্তানি “অনুকূলে” আছে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল শিল্প পুনর্গঠনে এই আয় থেকে একটি অংশ ব্যয় করা উচিত।’ এর আগে গত মাসে তিনি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের অপরিশোধিত তেলের বিক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন দেশ অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করেই ইরানের কাছে থেকে তেল কিনছে বলেও দাবি করেন তিনি। সূত্র: আল জাজিরাযুদ্ধেও তেল বিক্রি 'স্বাভাবিক' ছিল, দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদান অপসারণ এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার নিশ্চয়তা তৈরির বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। সোমবার ফক্স নিউজ চ্যানেলের ‘স্পেশাল রিপোর্ট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের দিকেই এগিয়েছে। আমরা যে সব শর্ত দিয়েছি তা যুক্তিযুক্ত। ইরানের বাধা দেওয়ার মতো সুযোগ নেই।’ ‘ইরানের আলোচকরা তাৎক্ষনিকভাবে সরাসরি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি। তাদের তেহরানের অন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে’, যোগ করেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান ইরানকে একটি স্বাভাবিক দেশের মতো দেখা হোক এবং দেশটির অর্থনীতি স্বাভাবিকভাবে চলুক। ‘এখানে বড় ধরনের একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমি মনে করি, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া এখন ইরানিদের ওপরই নির্ভর করছে’, বলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। সূত্র: ফক্স নিউজট্রাম্প চান ইরানকে স্বাভাবিক দেশের মতো দেখা হোক: জেডি ভ্যান্স

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। আগামী বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানের কূটনীতিকরা। বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আলোচনার স্থান নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইসলামাবাদের পরিবর্তে অন্য কোনো জায়গা বেছে নিতে চাইলে আমাদের প্রস্তাবটি পরিবর্তিত হতে পারে। এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও, শান্তি আলোচনা কোনো এককালীন উদ্যোগ ছিল না। বরং পাকিস্তানের মধ্যস্থতার চেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: এপিযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ফের শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান পাকিস্তানের



