পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান যে জবাব দিয়েছে, তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প এই প্রতিক্রিয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তেহরান কোনো অতিরিক্ত সুবিধা দাবি করেনি, বরং তারা কেবল তাদের ‘বৈধ অধিকার’ রক্ষার কথা বলেছে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ‘অযৌক্তিক দাবি’ এবং একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে। ইরানের জবাবে আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তেহরান মনে করে, তাদের এই প্রস্তাব অত্যন্ত ‘দায়িত্বশীল ও উদার’।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোকে কেবল ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ইরানের অনড় অবস্থানে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ।
হোয়াইট হাউসের সূত্রমতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি বাতিল করতে চায় না, বরং তারা ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে চাইছে।
গত কয়েক দিন ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ওপর জোর দিলেও ইরানের সর্বশেষ জবাবের পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে এক গভীর অচলাবস্থায় অবস্থায় রয়েছে।
ট্রাম্প পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এই উত্তেজনার ফলে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সূত্র: আল-জাজিরা


