যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারকের খসড়া পাওয়ার দাবি করেছে ইরান।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই খসড়া প্রস্তাবের আওতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটতে পারে। প্রস্তাবিত এই রূপরেখা অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাসের মধ্যে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে।
এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জলসীমার কাছাকাছি এলাকা থেকে তাদের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেবে এবং গত এপ্রিল মাস থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌঅবরোধ তুলে নেবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই শান্তি আলোচনায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে, যার অধীনে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি এবং খসড়ার অন্যান্য চূড়ান্ত শর্তাবলী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে খসড়ার বেশ কিছু ধারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কোনো একক দেশ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না।
একইসঙ্গে তিনি পরিষ্কার করেন, তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে কোনো আলোচনা এই মুহূর্তে হচ্ছে না। এর আগে ইরানি গণমাধ্যমগুলোতে একটি নতুন খসড়া শান্তি প্রস্তাবের খবর প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করবে, যার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশেপাশের এলাকা থেকে তাদের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেবে।
তবে ইরানি সংবাদমাধ্যমের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউজ। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের কোনো খসড়া প্রস্তাবের অস্তিত্ব নেই এবং হোয়াইট হাউজ এটিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা


