ঠাকুরগাঁও জেলার পৌরশহরের চানমারী এলাকায় অটোচালক এক যুবকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। একটি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন তিনি। একই চক্রের প্রতারণায় একাধিক নিম্ন আয়ের মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী আলামিন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। ছয় বছর আগে বাবাকে হারানোর পর জীবিকার তাগিদে এই পেশায় নামেন। তার সামান্য আয়েই চলে স্ত্রী-সন্তানের জীবন। শ্যালক সানী ও তার সহযোগী মেহেদীর কথায় একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেন তিনি। বিনিময়ে তাকে ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। পরে চেক বই ও এটিএম কার্ড নিয়ে নেন তারা।
কিছুদিন পর হঠাৎ আইনি নোটিশ পেয়ে ব্যাংকে গিয়ে আলামিন জানতে পারেন, তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। পরে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন একই এলাকার গৃহিণী সাবিনা ইয়াসমিন। তার নামেও দুটি ব্যাংক হিসাব খুলে এক মাসে চক্রটি লেনদেন করে ১০ লক্ষাধিক টাকা।
জানা গেছে, আলামিন আর সাবিনার মতো একই বেড়াজালে পড়েছেন সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের অনেকে। মেহেদী হাসান ও মজিবর নামের দুই ব্যক্তি একটি চক্র গড়ে তুলে নিম্ন আয়ের মানুষের সরলতার সুযোগ নিচ্ছিল। কম সুদে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দিয়ে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলানো হয়। পরে চেক বই, এটিএম কার্ড ও মোবাইল সিম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অবৈধ লেনদেন চালানো হতো।
অটোচালক আলামিনের শ্যালক সানী জানান, তার সঙ্গে অনলাইনে পরিচয় হয় চক্রের হোতা মেহেদী হাসানের। তারপর গড়ে তোলেন সংখ্য। প্রত্যেক অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পেতেন সানী।
ভুক্তভোগী অটোচালক আলামিন বলেন, ‘শ্যালকের কথামতো আমি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলি। তারা বলে তাদের কাজে লাগবে। আমার হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দেয়। পরে চেক আর কার্ড নিয়ে নেয়। আমি পড়াশোনা জানি না। আপন শ্যালক এই ক্ষতিটা করবে বুঝতে পারিনি।’
আরেক ভুক্তভোগী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে মেহেদীর ভালো সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে আমাদের বাড়িতে আসত। সে অনলাইনে কাজের জন্য আমার কাগজপত্র দিয়ে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলিয়েছে। পরে দেখি অনেক লেনদেন করেছে। মেহেদীকে যোগাযোগ করে পাচ্ছি না।’
দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের ভুক্তবোগীরা জানান, কম সুদে ঋণ পাওয়ার আশায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছেন তারা। প্রায় ৬ মাস পার হলেও কোনো খবর নেই ঋণের। এসব বিষয় জানাজানি হলে গা ঢাকা দেন মজিবর ও তার আরেক সহযোগী জীবন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে জীবন জানান, মজিবরের কথামতো এসব অ্যাকাউন্ট করিয়ে ফেঁসেছেন তিনি।
প্রতারণার বিষয় নিয়ে একাধিকার মেহেদী ও মজিবরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। বন্ধ রয়েছে তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর, সচল নেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টও।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‘আলামিন নামে একজন অটোচালক অভিযোগ দিয়েছেন। আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।’ আইনি জটিলতা এড়াতে এসব থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ।


