দেড় দশকে দেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ‘গত দেড় দশকে দেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও ইকোসিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে। অর্থনীতির মধ্যে যে গতি সঞ্চারের উদ্দীপনা থাকে, তা ছিল না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেই উদ্দীপনা অনুপস্থিত ছিল।’
শুক্রবার সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মসজিদে জুমার নামাজ আদায় ও কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইতোমধ্যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছি। আগামী দিনে কাজের মধ্য দিয়েই আমাদের চেষ্টার প্রতিফলন দেখা যাবে।’
‘বাংলাদেশ একটি বিকাশমান অর্থনীতির দেশ। এখানে প্রতিবছর ২০-২২ লাখ লোক কাজের বয়সে প্রবেশ করে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। ১২-১৩ বছর সেই বিনিয়োগ স্থবির ছিল। গত তিন বছর সেই স্থবিরতা প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায় দাঁড়িয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমরা ইতোমধ্যে এলডিসি ডেফারের জন্য চিঠি দিয়েছি। ট্যারিফ স্ট্রাকচার পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান চাপে রয়েছে। বিগত সময়ে নানা কারণে শিল্পের যথাযথ বিকাশ হয়নি। এ সময়ে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করা হচ্ছে।’
সিলেটের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে মাদক, পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বহু চ্যালেঞ্জ আছে। এগুলো সঠিকভাবে সমাধান করতে চাই। সিলেটবাসীসহ দেশের মানুষের জন্য গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।’
বন্ধ শিল্প কারখানা দ্রুত চালু হবে কি না এমন প্রশ্নে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বন্ধ থাকা শিল্প কারখানা দ্রুত চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা করব। কাজের মধ্য দিয়ে সক্ষমতা প্রমাণ করা হবে।’
পরবর্তী সময়ে মন্ত্রীদ্বয় হজরত শাহপরান (রহ.) ও গাজী বুরহান উদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন এবং ইসলামনগর মসজিদে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।


