রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যার বিবরণ দেন। তিনি ১১ আসামির ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীসহ ঊর্ধ্বতন অন্যান্য কর্মকর্তার নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে তাইমকে হত্যা করা হয়।
এমনকি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে বাঁচাতে পেছন দিয়ে ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার বন্ধু রাহাত। তখন তাকেও গুলি চালিয়ে তাইমকে ফেলে রেখে যেতে বাধ্য করে পুলিশ। মর্মান্তিক এ দৃশ্য সেই সময় সবার অন্তরে নাড়া দিয়েছিল।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, উসকানি-প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর।
গ্রেপ্তার দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবুল হাসান। পলাতক ৯ আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও লোকমান হাওলাদার। তারা শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করেন।
এ মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা হলেন যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ও তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন। হাবিবুর ছাড়া পলাতক অন্যান্য আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন, এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান ও মো. শাহদাত আলী।
এর আগে, ২৪ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ইমাম হাসান তাইম। নিহতের বাবা মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়াও একজন পুলিশ কর্মকর্তা।


