যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে বরফকল ব্যবসায়ী ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ‘শুটার’কে অস্ত্র-গুলিসহ আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলায় মোট চারজন আটক হয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকরা হলেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার বারান্দি পালবাড়ি এলাকার মাহমুদ হাসান হৃদয় (২৮) এবং বারান্দি পূর্বপাড়ার শামীম হোসাইন (৩১)।
শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।
তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজিব মোল্লাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ডিবি পুলিশ হৃদয় ও শামীমকে আটক করে। এরও আগে সাদ্দাম হোসেন নামে আরেকজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী ছিলেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির মনিরামপুরের আঞ্চলিক নেতা। তিনি কেশবপুর উপজেলার বাইসা গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। অপরদিকে আটকরা পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দুটি নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, রানা প্রতাপ বৈরাগী প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, ঘের ও জমি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কপালিয়া বাজারের ঝুমুর বিউটি পার্লারের পাশে অবস্থানকালে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। মাথা ও বুকে একাধিক গুলি করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। মামলা তদন্ত করছে যশোর ডিবি পুলিশ এবং অন্য জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।


