যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার অবিচল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সংবাদ সন্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল। যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরও কঠোর হওয়ার পাশাপাশি অধিক সক্রিয় ও তৎপর থাকা এবং সকল বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
‘এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে যেতে পারবেন।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
মো. জাহাঙ্গীর আলম সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহযোগিতার পাশাপাশি নির্বাচনি আচরণবিধিও মেনে চলার অনুরোধ জানান।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ের করা মামলায় আগামী ৭ জানুয়ারি চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। এরই মধ্যে এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার এবং এই সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা ছাড়াও, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা ও বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অগ্রগতি, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার এবং সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।


