ম্যাজিস্ট্রেসি ছাড়াই ঈদ নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী

ম্যাজিস্ট্রেসি ছাড়াই ঈদ নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

ম্যাজিস্ট্রেসির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে মোতায়েন আছে সশস্ত্র বাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের লেনদেন ও লাখ লাখ মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করছে।

কর্মকর্তারা জানান, ঈদের এই সময়ে তৈরি পোশাক খাতের কয়েক লাখ শ্রমিকের বেতন ও উৎসব বোনাস পরিশোধের ফলে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়।

এই সুযোগে কোনো গোষ্ঠী যাতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে না পারে, সেজন্য সশস্ত্র বাহিনী নিবিড়ভাবে নজরদারি চালাচ্ছে। বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর হাতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা না থাকায় মাঠপর্যায়ে কোনো অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে রাখা হচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে গত প্রায় দুই বছর ধরে সশস্ত্র বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করে আসছে। অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করতে ধাপে ধাপে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করে, যা সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই ক্ষমতার সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। সেই সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কোস্টগার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধির বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী অপরাধ আমলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা পেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম সংসদ নির্বাচন চলাকালীন সারা দেশে এক লাখেরও বেশি সেনা সদস্যের পাশাপাশি নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার এবং বিমানবাহিনীর তিন হাজার ৭৩০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়। নির্বাচন শেষে তাদের একটি বড় অংশ ব্যারাকে ফিরে গেলেও বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৩৭ হাজার সদস্য সারা দেশে মোতায়েন রয়েছেন।

সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি মনে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতির আর দরকার নেই, তবে অবশিষ্ট সদস্যরাও ব্যারাকে ফিরে যাবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন দিন পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

ওই সময়ে উদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করা হয়। এরপর থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর এই ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছিল, যা গত ফেব্রুয়ারির শেষে এসে সমাপ্ত হয়েছে।

তবে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা শেষ হলেও সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এখনো সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad