পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৮ রানেই নেই বাংলাদেশের প্রথম চার উইকেট। ঘোর বিপদের মুখে দলের ত্রাতা হিসেবে তখন আবির্ভূত হন জাকের আলী অনিক, তার সঙ্গী ছিলেন শেখ মাহেদী হাসান। দুজনের ৫৩ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে বাংলাদেশ। মাঝপথে মাহেদী থামলেও ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত উইকেট ছিলেন তৃতীয় ফিফটি ছোঁয়া জাকের। তার ৪৮ বলে ৫৫ রানের ইনিংসে ১৩৩ রানে থামে বাংলাদেশ।
লো স্কোরিং হলেও বাংলাদেশের এই রানই যথেষ্ট ছিল পাকিস্তানকে থমকে দিতে। তানজিম হাসান সাকিব-শরীফুল ইসলামদের দারুণ বোলিংয়ে ১২৫ রানে অল আউট হয় পাকিস্তান। অবশ্য দুই পেসার দারুণ বল করলেও ম্যাচ সেরা হয়েছেন জাকেরই। ৫৫ রানের ইনিংসে জাকের একাই মেরেছেন পাঁচটা ছক্কা, চার ছিল মাত্র একটি।
এমন ইনিংস খেলারা পর জাকের খুশি হয়েছেন কেবল একটা কারণেই, দল ম্যাচ জিতেছে বলে। সংবাদ সম্মেলনে এসে সরাসরিই বলেছেন, ম্যাচ না জিতলে সেসব ইনিংস তিনি আলাদা করে মনে রাখেন না। নিজের খেলা ইনিংসগুলোর মাহাত্ম্য বা গুরুত্ব তার কাছে কেবল ম্যাচ জেতা দিয়েই।
জাকের বলেন, ‘ম্যাচ উইনিং নক খুব ইম্পরট্যান্ট। আমি এই ম্যাচ উইনিং নকগুলোই কাউন্ট করি। এছাড়া কোনো কিছু কাউন্ট করি না। যতই ভালো খেলি আমি কাউন্ট করি না। যদি আমার টিম না জিতে আমি পার্সোনালি কাউন্ট করি না। আজকে কন্ট্রিবিউট করতে পেরেছি, তাই কাউন্ট করছি।’
মাহেদীর পর শামীম পাটোয়ারিও আজ দ্রুতই আউট হয়েছেন। ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত উইকেটে থাকা জাকেরকে তাই ব্যাট করতে হয়েছে টেইলএন্ডারদের নিয়েই। তানজিম সাকিব থেকে শুরু করে মোস্তাফিজুর রহমান; সবাই এই ম্যাচে ব্যাট করেছেন জাকেরের সাথে। অবশ্য জাকের জানিয়েছেন, টেইলএন্ডারদের নিয়ে খেলার অভ্যাস তার বেশ পুরনো। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই বোলারদের সাথে খেলে আসছেন তিনি।
তবে যখন টেইলএন্ডারদের সাথে ব্যাট করেন, তখন তার চেষ্টা থাকে তাদের স্ট্রাইক থেকে সরিয়ে রাখা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও জাকের ঠিক এই কাজটাই করেছেন। সাকিব, শরীফুল কিংবা মোস্তাফিজকে নন-স্ট্রাইকিং এন্ডে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
টেইলএন্ডারদের সাথে ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতা ও মানসিকতা নিয়ে জাকের বলেন, ‘টেইলের সাথে আমি এইজ গ্রুপ থেকেই ব্যাটিং করি। এজ গ্রুপে আমি সাত নম্বর পজিশনে ব্যাট করতাম। অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭… অনূর্ধ্ব-১৭ তে আমার একটা একশো আছে, ওখানে টেলের সাথে ৭১ রানের একটা পার্টনারশিপে একশো আছে। এগুলো আমার অভ্যাস আছে, এগুলো নিয়ে আমি চিন্তাই করি না। আমি শুধু চেষ্টা করি আমার সাথে যে থাকে প্রোপার ব্যাটার হিসেবে তাকে সেইফ করে খেলতে, যাতে দুদিক থেকেই রানটা হয় সেই চেষ্টাই করি।’


