‘ভিশনএক্স: এআই পাওয়ার্ড ন্যাশনাল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জাতীয় প্রতিযোগিতার প্রজেক্ট শোকেসিং ট্র্যাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে শনিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক উপমা কবির এবং ইউএস-বাংলা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন, মননশীলতা ও উন্নয়নচর্চা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া সম্পর্ক মজবুত হলে সাধারণ মানুষের কল্যাণে প্রযুক্তি আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধে এবং জনস্বার্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। তিনি তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি এর বাস্তব প্রয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর সায়মা হক বিদিশা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে এআই ব্যবহার বিস্তারের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
এবারের ‘ভিশনএক্স’ প্রতিযোগিতায় দুটি ট্র্যাক ছিল—বিজনেস আইডিয়া ও প্রজেক্ট শোকেসিং। বিজনেস আইডিয়া ট্র্যাকে ৪১টি উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করা হয় এবং প্রজেক্ট শোকেসিং ট্র্যাকে প্রদর্শিত হয় এআই–ভিত্তিক প্রকল্প ও উদ্ভাবন।
প্রজেক্ট শোকেসিং ট্র্যাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়। ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ১ম রানার আপ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ২য় রানার আপ হয়।
বিজনেস আইডিয়া ট্র্যাকে লিডিং ইউনিভার্সিটি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। এই ট্র্যাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১ম রানার আপ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২য় রানার আপ হয়।
চ্যাম্পিয়ন দল পায় ১ লক্ষ টাকা ও দুই দিনের ব্যাংকক ভ্রমণ। ১ম রানার আপ দল পায় ৮০ হাজার টাকা ও কক্সবাজার ভ্রমণ এবং ২য় রানার আপ পায় ৫০ হাজার টাকা ও কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ। দেশ-বিদেশের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১টি দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।


