যারা বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়ে মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়, তারাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
সোমবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়। অথচ ২০২১ সালে সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সংগীতাঙ্গন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন জেলায় কোনো সিনেমা হল নেই। কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। এই কালো নকশা কারা করছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কোনো বিশেষ দলের নয়, জনতার যুদ্ধ ছিল। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। কেউ গণআন্দোলনকে কুক্ষিগত করতে চাইলে অতীত ও ভবিষ্যতের পরিণতি ভালো হবে না। বনলতা এক্সপ্রেস একটি পারিবারিক ও সামাজিক ছবি। যে রাষ্ট্র ধর্ষণ, হত্যা ও দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে না, সে রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধে মদদ দেয়?’
উগ্রবাদের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গত দুই বছরে মাজার ভাঙা হয়েছে। কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো হয়েছে। ডানপন্থি উগ্রবাদের উত্থান দেখেছি। আমাদের দেশের মাটি এমন ছিল না। এই দেশে সুমধুর আজানের ধ্বনির সঙ্গে বাউল গানও হয়েছে। এখন প্রশ্ন জাগে, কারা বাংলাদেশকে মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়? আমরা মানুষকে পেছনে নিয়ে যাওয়ার মতো রাষ্ট্র আশা করি না।’
তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বিঘ্নে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পালনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, উদীচী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফতি আল জাবেদ ও সামাজিক সংগঠন সোনালি সকালের সভাপতি ফাহিম মুনতাসির।
বক্তারা সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে মহাসড়কে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।
গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল। কওমি ছাত্র-জনতার বিরোধের মুখে প্রদর্শনীটি স্থগিত করা হলে সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।


