একটা টুর্নামেন্টের ফাইনাল জমাতে যা যা লাগে, সবই ছিল সোমবারের অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দুই ওপেনার সাইফ-তানজিদের ১৪৯ রানের জুটিতে ধুমকেতু একাদশের ২০৮। জবাবে হাবিবুর রহমান সোহানের ঝড়ো ফিফটি, নুরুল হাসান সোহানের পাল্টা আক্রমণ। শেষ বলে গড়ানো ম্যাচে আফিফ হোসেন ধ্রুবর পাল্টা জবাবেও ম্যাচ জিতল না দুর্বার। কারণ এক মোস্তাফিজুর রহমানের ম্য্যাজিকে থামতে হলো তাদের ২০১ রানে। ৭ রানে ম্যাচ জিতে শিরোপাও নিজেদের করে নিলেন লিটন দাসরা।
ধুমকেতু একাদশের সাইফ আর তানজিদ একটু আফসোস আজ করতেই পারেন বোধহয়। সোমবার অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে তারা দুজন যেভাবে ব্যাট চালিয়েছেন, সেসব দেখার জন্য মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে উপস্থিত ছিলেন না কোনো সাংবাদিক।
কারণ এক ফটো সাংবাদিককে প্রেসিডেন্টস বক্সে তিন পরিচালকের ছবি তোলার জন্য বিসিবির সতর্কতা নোটিশের পর এই ম্যাচ বয়কট করেছেন ক্রিকেট কভার করা সকল সাংবাদিক। দুর্বার একাদশের হাবিবুর সোহানরাও একই দলে পড়েন। অবশ্য সাংবাদিকদেরও দারুণ একটা ম্যাচ মিস করার আক্ষেপ আছে কিনা কে জানে।
অবশ্য সেসব ছাপিয়ে হাইলাইটস হয়ে রইলেন মোস্তাফিজই। আগের দুই ম্যাচে মাত্র দুই ওভার করে বল করলেও ফাইনালে করেছেন চার ওভার। ৩৩ রানে নিয়েছেন দুই উইকেট, শেষ ওভারে ডিফেন্ড করেছেন ১৬ রান। সাব্বির রহমানকে ভুগিয়েছেন টানা কাটারে।
এর আগে ২০৯ রান তাড়ায় নেমে যেভাবে শুরুটা করা দরকার ছিল, ঠিক সেভাবেই করেছেন হাবিবুর। আগের ম্যাচে ১৭ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলে থামলেও ফাইনালে খেললেন ২৭ বলে ৬৭ রানের ইনিংস। আট চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো এই তাণ্ডব থেমেছে মোস্তাফিজের বলে। বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে শর্ট স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলেছেন মুকিদুলের হাতে। তবে এর আগে যা করেছেন, তাতে ২০০ পেরোনো সংগ্রহ নিয়েও কাঁপন ধরেছিল লিটনদের বুকে।
ওপেনিংয়ে নেমে ব্যর্থ মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর অধিনায়ক শান্তর সাথে ৭০ রানের জুটিতে ৬৫ রানই এসেছে হাবিবুরের ব্যাট থেকে। হাবিবুরের পর শান্তও বিদায় নেন দ্রুত। এরপর পাল্টা আক্রমণ করেছেন সোহান ওধ্রুব। ৫৮ বলে গড়েছেন ৯৪ রানের জুটি। আলো ছড়িয়েছেন ধুমকেতুর বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জয়ের নায়ক নুরুল হাসান সোহান। ফাইনালেও চওড়া হয়েছে তার ব্যাট। ৩২ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর অবশ্য ৫৪ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। আউট হয়েছেন মোস্তাফিজের বলে স্কুপ করতে গিয়ে। আফিফ অপরাজিত ছিলেন ৩৬ বলে ৬০* রানে।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় ধুমকেতু। সাইফ আর তানজিদের মারকুটে ব্যাটিংয়ে যেন বল করার জায়গা খুঁজে মরছিলেন দুর্বারের বোলাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারটা দেখেশুনে খেললেও দ্বিতীয় ওভার থেকে শুরু হয়ে ধুমকেতুর দুই ওপেনারের তাণ্ডব। আলিস আল ইসলামকে দিয়ে শুরু। এরপর পঞ্চম ওভারে হাসান মাহমুদের এক ওভারে সাইফের তিন ছক্কা। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে সাইফউদ্দিনের বল থেকে ১৪ রান। দুই ব্যাটারের চওড়া ব্যাটে ৬ ওভারে বিনা উইকেট ৬৬।
যেটা চলমান ছিল ইনিংসের ১৪তম ওভার পর্যন্ত। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটিতেই ১৪৯ রান তোলে ধুমকেতু। এই জুটির পথে ৪৪ বলে ৭ ছক্কা ও ৪টি চারে ৭৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসে খেলেন সাইফ। ডানহাতি এই ওপেনার ফিফটি ছুঁয়েছেন ২৮ বলে। সাইফ ফিরলেও থামেনি তানজিদের ব্যাট। উইকেটে ছিলেন ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত। ৫৪ বলে ৮৪* রানের ইনিংসের ছক্কা মেরেছেন চারটি, যার শেষটি এসেছে খালেদের করা শেষ বলে। এর আগে এই বাঁহাতি ওপেনার মেরেছেন তিন ছক্কা আর ৮ চারে।
সাইফ আর তানজিদের ঝোড়ো সন্ধ্যায় তিনে নেমে লিটন দাস শুরু করেছিলেন দুই ছক্কায়। যদিও ইনিংস বড় করতে পারেননি। আউট হয়েছেন ৭ বলে ১৫ রানে। দুর্বারের বোলাররাও ছিলেন বেশ খরুচে। চল্লিশোর্ধ্ব রান দিয়েছেন সাইফ উদ্দিন ও তানভীর ইসলাম। সাইফের সাথে একটি করে উইকেট নেন হাসান ও আলিস।


