হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে একজন অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রো স্টেশনে পুলিশের হেনস্তার ঘটনায় হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোতে চড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকার ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে হাফপ্যান্ট পরে প্রতিবাদ জানানোর এই অভিনব ঘটনা ঘটে।
এই স্টেশনেই গত মঙ্গলবার পুলিশের কাছে হেনস্তার শিকার হন অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। সেদিন সকালে তিনি টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরিহিত অবস্থায় মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন।
সাজ্জাদ হোসেনকে হেনস্তার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বৃহস্পতিবার সকালে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শীর্ষক ইভেন্ট আয়োজন করে কয়েক তরুণ। যারা স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার (খেলাধুলার পোশাক) পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন, তাদের ইভেন্টটিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।’
ইভেন্টের বর্ণনায় লেখা ছিল, ‘আপনার রানিং শর্টস পরুন, টি-শার্ট পরুন, একসঙ্গে আসুন, মেট্রোতে উঠুন৷ এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়। এটি একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ— স্বেচ্ছাচারী হয়রানির বিরুদ্ধে, স্পষ্ট নিয়মের দাবিতে এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে। কোনো কিছু নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা উচিত। সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!’
বুধবার রাত পর্যন্ত ইভেন্টিতে আট হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অবশ্য সকালে ফার্মগেট স্টেশনে আয়োজক অ্যাথলেটদের কাউকে দেখা না গেলেও তাদের ইভেন্টে আগ্রহী কয়েক তরুণকে হাফপ্যান্ট বা স্পোর্টসওয়্যার পরে মেট্রোরেলে উঠতে দেখা যায়।
ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী রকিবুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের সবারই ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে, সো কারও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে বাধা দেওয়ার কারো রাইট নেই। তাহলে মেট্টোরেলে, তাকে বাধাগ্রস্ত করা বা আটকে রেখে হয়রানি কেন? প্রতিবাদ শুরু হোক আমার আপনার থেকে। আমাদের এটি একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ – স্বেচ্ছাচারী হয়রানির বিরুদ্ধে, স্পষ্ট নিয়মের দাবিতে, এবং মেট্টোরেলের সকল যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে। যেন আর কোনো যাত্রীকে এমন হয়রানিতে পরতে না হয়। কোনো কিছু নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট, লিখিত নিয়ম থাকা উচিত।’
অভিযোগ উঠেছে, গত মঙ্গলবার সকালে শরীরচর্চা শেষ করে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ায় সাজ্জাদ হোসেনকে প্রায় ৪০ মিনিট টিকিট পাঞ্চের মেশিনের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এ সময় তিনি কারণ জানতে চাইলে তার পরিহিত পোশাককে ‘অশালীন’ বলে উল্লেখ করেন স্টেশনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য। এরপর তিনি ওই পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেন এবং নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করলে তা ভাইরাল হয়ে পড়ে।


