বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক মডেল ও অভিনেত্রী মেঘনা আলমের মুক্তি কেন দেওয়া হবে না এবং তার বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে, তাকে যেভাবে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে, তা কেন অসাংবিধানিক ও মানবাধিকার পরিপন্থি বিবেচিত হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত।
রোববার (১৩ এপ্রিল) মেঘনার বাবা বদরুল আলমের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদির হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। আবেদনের আরেক আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেঘনা আলমের বিরুদ্ধে যদি প্রকৃত কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু বিশেষ ক্ষমতা আইনে অস্পষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, যা আমরা চ্যালেঞ্জ করেছি।’
এদিকে, মেঘনা আলমকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া ‘সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি’ বলে রোববারই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, ‘মেঘনা আলমের বিষয়ে কিছু অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত চলছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
অন্যদিকে, মেঘনাকে আটকের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধানের পদ থেকে রেজাউল করিম মল্লিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে ডিএমপি সদর দপ্তরে।
গত বুধবার (১০ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে মেঘনা আলমকে আটক করে ডিবি পুলিশ। আটক হওয়ার আগে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, পুলিশ পরিচয়ধারীরা তার বাসার দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। ১২ মিনিটেরও বেশি সময় চলা সেই লাইভ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে তার ফেসবুক আইডি থেকে তা মুছে দেওয়া হয়, যদিও এরই মধ্যে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। এরপর আদালত বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩ (১) ধারা অনুযায়ী তাকে ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মেঘনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্ন, ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে অবনতি ঘটানোর চেষ্টা এবং দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানায় ডিবি।


