চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার দিনগত রাত দেড়টার দিকে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শফিকুল ইসলাম টাইমসকে বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু লিখিত অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরে তার বক্তব্য নিয়ে মুচলেকা নিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ ও তার বক্তব্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘কোন চাপের কারণে তাকে ছাড়া হয়নি।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেছেন, ‘সামগ্রিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে আটকের পর নারায়ণগঞ্জে ডিবি কার্যালয় জিজ্ঞাসা করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
তিনি জানান, সজীবের বিরুদ্ধে আগে যেসব মামলা ছিল তার অধিকাংশ প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি হয়েছে। অন্যগুলোতে তিনি জামিনে আছেন। তার বিরুদ্ধে এখন কোনো মামলা নেই।
এর আগে, রোববার দুপুরে রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে বিকাল ৫টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। রাতে তাকে ঢাকা আনা হয়।
গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়েছি। তাকে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
এদিকে আটকের পর পরই জেলা যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে খাইরুল ইসলাম সজীবকে। রোববার রাতে যুবদলের প্যাডে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
সেখানে বলা হয়, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।


