কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ নিহত হন মাদ্রাসা শিক্ষক মুফতি আব্দুল মমিন।
শুক্রবার বাদ জুমা লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামের বশাহাজী পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
পরে একই কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন করা হবে। একই সঙ্গে পরিবারের ৪ জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবারের ওই দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), ছেলে সাইফ (৭) ও মেয়ে লাবিবা (১৮)। একই দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকার চালক জামাল হোসেনও (৫২) নিহত হন। তার বাড়ি বরিশাল জেলায়।
এ ঘটনায় আব্দুল মমিনের আরেক ছেলে আবরার (১২) আহত হয়েছেন। তাকে ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কর্মস্থলে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন মমিন ও তার পরিবার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
মুফতি আব্দুল মমিন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। তবে নিজ গ্রামে জমিজমা না থাকায় পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। ঈদের সময় তিনি নিয়মিত শ্বশুরবাড়ি লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামে আসতেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এদিকে নিহত ঝর্না বেগম খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের বোন। ফয়সাল আহমাদ জানান, দুর্ঘটনায় তার বোন, ভগ্নিপতি ও তাদের দুই সন্তান মারা গেছেন। এরই মধ্যে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
লাশবাহী গাড়িগুলো কবরস্থানের পাশে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, জুমার নামাজ শেষে জানাজা সম্পন্ন করে একসঙ্গে দাফন করা হবে।


