দেড় বছর আগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে তাওহীদ ইসলামকে (১০) অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পর হত্যার দায়ে মো. মকবুল হোসেন নামে এক আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।
বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মকবুল ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার লাখিরচর এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত আলী হোসেন ও মাতার নাম সুফিয়া বেগম।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। অপর এক ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম জর্জ জানান, রায় ঘোষণার সময় হত্যাকারী আদালতে হাজির ছিল। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর শিশুটির স্মৃতিচারণ করে তার মা মোসা. তাসলিমা আক্তার, বোন ও নানি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় বলা হয়, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আব্দুল্লাহপুর এলাকার রসুলপুর জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত মো. তাওহীদ ইসলাম।
গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫টায় মাদ্রাসার উদ্দেশে বের হয়ে মামার দোকানে যায়। মামাকে না পেয়ে একাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয় সে। পথে মো. মকবুল হোসেন তাকে অপহরণ করে এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে।
এতে আরও বলা হয়, পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় মকবুল হোসেনের কথা মতো ঠিক জায়গায় মুক্তিপণ রেখে আসেন ভুক্তভোগীর মামা। টাকা পাওয়ার পরেও মকবুল শিশুটিকে ফেরত না দিলে তার পরিবার র্যাবের কাছে অভিযোগ জানালে র্যাব অভিযান চালিয়ে মকবুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট থানার উপপরিদর্শক এ কে এম সাইদুজ্জামান গত বছরের ৩১ জুলাই মকবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে আসামির বিরুদ্ধে ১৮ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।


