রাজধানীর রূপনগর শিয়ালবাড়ি এলাকার কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ১২ দিন পর নিখোঁজ গার্মেন্টসকর্মী মার্জিয়া সুলতানা (১৪)-এর পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ঘটনাটিতে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭ জনে।
রোববার বিকালে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পোশাক কারখানাটির তৃতীয় তলায় মরদেহটি খুঁজে পান তার স্বজনরা। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রূপনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মার্জিয়ার বাবা সুলতান মিয়া বলেন, ‘তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার রাজাপুর গ্রামে। ছয় মাস আগে চাচাতো ভাই জয় মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী দুজনই ওই পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। ১৪ অক্টোবর অগ্নিকাণ্ডের পর জয়ের মরদেহ উদ্ধার হলেও মার্জিয়া নিখোঁজ ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, মেয়ের মরদেহ ওই ভবনেই রয়েছে। বারবার অনুরোধ করেও ভবনে ঢুকে খোঁজার সুযোগ পাইনি। অবশেষে রোববার থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তায় আমরা খুঁজতে যাই। তৃতীয় তলায় দুর্গন্ধ আসছিল। পরে পোড়া কাপড়ের বান্ডেল সরিয়ে এবং একটি মেশিন সরাতেই চাপা পড়া মরদেহটি পাওয়া যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মরদেহের গায়ে কালো বোরখা, ভেতরে হলুদ-কালো গেঞ্জি ছিল। পাশাপাশি মেয়ের জুতাও পাওয়া গেছে। এগুলো দেখে আমরা নিশ্চিত হই, এটি মার্জিয়ার মরদেহ।’
মার্জিয়ার শ্বশুর সবুজ মিয়া দাবি করেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমরা পুলিশকে বারবার জানিয়েছি যে মার্জিয়া নিখোঁজ। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তদন্ত শেষে শুধু থানায় জিডি করতে বলেছিল। তখনই ভবনের ভেতর ভালোভাবে তল্লাশি করলে সম্ভবত মরদেহটি আগেই পাওয়া যেত। ফায়ার সার্ভিস কিংবা পুলিশ–কেউই সেদিকে নজর দেয়নি।’
রূপনগর থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, রোববার সন্ধ্যার দিকে পোশাক কারখানার ভেতর থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি ছেলে নাকি মেয়ের–তা পোড়া অবস্থার কারণে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে একটি পরিবার তাদের মেয়েকে নিখোঁজ বলে অভিযোগ করে আসছিল। মরদেহটি সেই মেয়ের হতে পারে।
এর আগে, ১৪ অক্টোবর মিরপুরের রূপনগরের একটি রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। মুহূর্তেই সে আগুন পাশের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


