রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
মিরপুর ১০, ১ ও ২ নম্বর এলাকার মূল সড়কে অবস্থানরত দুই শতাধিক হকারকে ডিজিটাল আইডি কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ব্যবসার বৈধতা ও নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে ডিএনসিসি।
বৃহস্পতিবার বিকালে ডিএনসিসি নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে ২০২ জন হকারকে এই ডিজিটাল কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০২ জনকে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনের ওয়াসা রোডে এবং বাকি ১০০ জনকে গাবতলী কাজা বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।
উদ্বোধনকালে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হকারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এই তালিকা এবং স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা নিজেরাই এখন থেকে আর অবৈধভাবে রাস্তায় বসতে চান না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মানবিক নির্দেশনা অনুযায়ী হকারদের জীবিকা সচল রেখে এই বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। এরপরও যদি কেউ পুরনো স্থানে বা মূল সড়কে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, তাদের সংগৃহীত তালিকায় মোট ৮২৯ জন হকার রয়েছেন। বাকি হকারদেরও পর্যায়ক্রমে পরিচয়পত্র দিয়ে নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। যদিও শুরুতে রাজধানীর ৬টি মাঠ ব্যবহারের প্রস্তাব ছিল, কিন্তু শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পরিবেশ রক্ষায় ডিএনসিসি মাঠের বদলে বিকল্প সড়ক বা ফাঁকা জায়গা বেছে নিয়েছে। ভবিষ্যতে হকারদের জন্য স্থায়ী ‘হকার্স মার্কেট’ নির্মাণের পরিকল্পনাও সংস্থাটির বিবেচনাধীন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পুনর্বাসিত হকাররা কোনোভাবেই স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করতে পারবেন না এবং নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে যেতে পারবেন না। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডিএমপি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ ও ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


