ঢাকার মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে কেমিক্যাল গোডাউনে লাগা আগুন এখনো জ্বলছে।
কেমিক্যালের বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিষিয়ে উঠেছে চারপাশ। জ্বলতে থাকা গোডাউনের আশেপাশে গেলেই শ্বাস নেওয়া যাচ্ছে না, জ্বালাপোড়া করছে চোখ।
এ আগুন কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, কীভাবে ফায়ার সার্ভিস কেমিক্যালের এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে তা জানতে বুয়েটের একটি প্রতিনিধি দল খুব দ্রুতই সেখানে যাবেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে বারোটার দিকে ওই গোডাউনে আগুন লাগে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের পোশাক কারখানায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে। আরও কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আহতদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। নিহতদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘মরদেহগুলোর অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত না করলে তাদের চেনা সম্ভব নয়।’

মঙ্গলবার তিনি জানান, ‘দোতলা ও তিনতলার বিভিন্ন কর্নারে মরদেহগুলো পাওয়া যায়। তারা নিচে নামতে পারেননি, আবার ছাদে যাওয়ার দরজাটিও দুই তালা দিয়ে বন্ধ ছিল। ফলে ওপরে বা নিচে যাওয়ার কোনো পথই খোলা ছিল না।’
কেমিক্যাল গোডাউনটিতে ছয়-সাত ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মজুদ ছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। আর তাই এই আগুন নেভাতে রোবট, গ্রাউন্ড মনিটর, পাউডার, ওয়াটার, এনজাইম এবং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহার করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের শুরুতেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয় জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এতে সাদা ধোঁয়া বা টক্সিক গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে, যা অত্যন্ত বিষাক্ত। সম্ভবত এই গ্যাসের কারণেই হতাহতরা প্রথমে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।’
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১২টি ইউনিট। প্রায় ২০ ঘণ্টার চেষ্টাতেও পুরোপুরি নেভানো যায়নি আগুন। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।


