মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ অংশের মানুষের ঘরবাড়িও। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে এ দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সীমান্তের ৪৩ ও ৪৪ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী মিয়ানমারের সামান্য ভেতর থেকে দুপুরে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একই দিক থেকে আরো একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি এতটাই তীব্র ছিল যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত এলাকার ভূমি কেঁপে ওঠে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের জামছড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ও জোবায়ের বলেন, দুইবারই বিস্ফোরণের আওয়াজ এত জোরালো ছিল যে মনে হচ্ছিল খুব কাছাকাছি কোথাও বড় কিছু বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি হয়, অনেকে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
চেরার মাঠ এলাকার স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষক মো. আইয়ুব বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৩টার বিস্ফোরণের সময় আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। শব্দটি এত প্রবল ছিল যে ঘরের দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। মনে হচ্ছিল বিস্ফোরণটি ঠিক সীমান্তের পাশেই ঘটেছে।’
তবে কী কারণে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর ধারণা, মিয়ানমারে বর্তমানে সক্রিয় তিনটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে যে সংঘর্ষ চলছে সেখানে কোনো ভারী অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। আর তা থেকেই এই শব্দের উৎপত্তি। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি সীমান্তের কাছে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইনের বিস্ফোরণও হতে পারে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. খায়রুল আলম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারা দুপুর ও বিকেলে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে ভেসে আসা দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমান্তে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রভাব পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, তবে সীমান্তে সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।’
এর আগে শনিবার বিকালে মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন নাফ নদীতে আরাকান আর্মির সঙ্গে সশস্ত্র রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংর্ঘষ হয়।
সেসময় টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলি এসে স্থানীয় একটি কম্পিউটারের দোকানে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একই সময়ে ওই এলাকার ছেনুয়ারা বেগম নামের এক নারী বাড়ির উঠানে হাঁটাহাঁটি করার সময় পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা আহত ছেনুয়ারাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বিকালে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিপরীতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্তজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


