মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ নৌকাডুবি, ১১ মরদেহ উদ্ধার

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ নৌকাডুবি, ১১ মরদেহ উদ্ধার
মেরিটাইম মালয়েশিয়ার উদ্ধার উভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোট। ছবি: এমএমইএ
Advertisement
Advertisement

মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী বোঝাই  নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। এখনও আরও শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ আছেন বলে জানিয়েছেন জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, রোববার মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ সাতটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও এক মেয়ে শিশু।
মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির (এমএমইএ) আঞ্চলিক প্রধান রমলি মুস্তাফা জানান, এ পর্যন্ত ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

নৌকাটি থাইল্যান্ডের কো তারুতাও দ্বীপের কাছাকাছি, মালয়েশিয়ার লাংকাবি দ্বীপের উত্তর দিকে ডুবে যায়। থাই নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড তাদের সীমান্ত থেকে দুই শিশুসহ আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তাদের ধারণা, ওই মরদেহগুলোও নৌকায় থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নৌকাটিতে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাসহ প্রায় ৭০ জন আরোহী ছিলেন। তারা প্রায় তিনদিন আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে মালয়েশিয়ায় অনুপ্রবেশের জন্য যাত্রা শুরু করেন।

জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বরাতে মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের পুলিশ প্রধান আদজলি আবু শাহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানান, প্রায় ৩০০ জন রোহিঙ্গা একটি বড় নৌকায় সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের নজর এড়াতে মানব পাচারকারীরা তাদের ছোট ছোট তিনটি নৌকায় সমুদ্রে ছেড়ে দেন। প্রতিটি নৌকায় প্রায় ১০০ জন করে অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন।

আরও পড়ুন

তিনটি ছোট নৌকার মধ্যে দুটি এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আদজলি। তবে সেগুলো লাংকাবির উপকূলের কাছাকাছিই রয়েছে বলে ধারণা কর্তৃপক্ষের।

লাংকাবি থেকে প্রায় ৫৮৩ বর্গকিলোমিটার জুড়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি এবং মেরিন পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছি যাতে তারা উদ্ধার অভিযান চালায় এবং নিখোঁজ নৌকাগুলোর সন্ধান করতে থাকে।’

এদিকে এমএমইএ কর্মকর্তা রমলি রমলি মুস্তাফা বলেন, ‘সীমান্ত পেরিয়ে মানব পাচার চক্রগুলো এখন আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা অভিবাসীদের উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ ব্যবহার করে শিকার বানাচ্ছে।’

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাচারকারীরা প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে বিপজ্জনক এই যাত্রার জন্য প্রায় তিন হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ আদায় করে থাকে।

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের আশ্রয় দিয়ে থাকে। কাজেই গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়ায় ঢোকার চেষ্টা বহুদিনের। কেননা তাদের আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজন এরইমধ্যে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছে। মিয়ানমার থেকে মালয়েশিয়ার সমুদ্রপথও এ অঞ্চলের পাচারকারীদের বেশ পরিচিত। তারা নজরদারি এড়াতে থাইল্যান্ডের উপকূল ঘেঁষে মালয়েশিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad