বিলুপ্ত হতে বসেছে মাদারীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। আধুনিক প্লাস্টিক ও সিরামিক পণ্যের দাপটে শত বছরের পুরনো এই গ্রামীণ শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এক সময় মাদারীপুর সদর, রাজৈর, কালকিনি, ডাসার ও শিবচর উপজেলার ঘরে ঘরে ছিল মাটির জিনিসের ব্যাপক চাহিদা। শিবচরের ভদ্রাসন পাল পাড়ার সত্তরোর্ধ্ব কারিগর ভবোনাথ পাল এখনো চাকা ঘুরিয়ে মাটির কলস, গ্লাস ও খেলনা তৈরি করেন। তিনি কাদা দিয়ে এসব জিনিস বানিয়ে কাঁচা অবস্থায় তাতে ফুল ও পাখির নকশা করেন। এরপর রোদে শুকিয়ে এবং আগুনে পুড়িয়ে সেগুলোতে রঙ করা হয়। আসন্ন বাংলা নববর্ষের মেলা উপলক্ষে এখন কুমার পাড়াগুলোতে নারী-পুরুষের ব্যস্ততা বেড়েছে।
তবে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও উপকরণের অভাবে এই শিল্প টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভবোনাথ পাল জানান, ভদ্রাসনের পাল পাড়ায় একসময় এই পেশায় ছিল ২০০টি পরিবার। দশ বছর আগেও সেখানে ৭০টি পরিবার কাজ করত। বর্তমানে মাত্র ২০ থেকে ৩০টি পরিবার এই আদি পেশা কোনোমতে ধরে রেখেছে। অন্য কোনো কাজ জানা না থাকায় তারা এই পেশাতেই রয়ে গেছেন।
রাজৈর টেকেরহাট পাল পাড়ার মৃৎশিল্পী হরহরি দাস বলেন, আগের মতো মাটির জিনিসের কদর নেই। এ কারণে অনেক কারিগর অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এখন কেবল নববর্ষের মেলাতেই কিছু জিনিস বিক্রি হয়।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, আবহমান বাংলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী সরকার। তিনি জানান, মৃৎশিল্পীরা চাইলে তাদের ক্ষুদ্র ঋণসহ সব ধরণের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বাংলার এই অমূল্য ঐতিহ্যকে বাঁচাতে এখন শুধু আশ্বাসের বদলে দরকার সময়োপযোগী কার্যকর সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতা।


