সেনাবাহিনীর কাছ থেকে মাঠ পুনরুদ্ধারের পর এটিকে আগের নামে চালুর পাশাপাশি একটি আধুনিক গ্রিন ইকোপার্ক হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর কাছ থেকে পার্কের মাঠটি আমরা আলোচনার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করেছি। এটি আবার “জিয়া শিশু পার্ক” নামেই চালু করা হবে।’
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
মেয়র জানান, পার্কটিকে একটি পরিবেশবান্ধব গ্রিন ইকোপার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে কোনো স্থায়ী স্থাপনা থাকবে না। সবুজে ঘেরা এই পার্কে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ নির্মল পরিবেশে সময় কাটাতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়া জাদুঘরকে ধ্বংস বা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। গত ১৬ বছরে জাদুঘরটিকে অবহেলা ও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা রাখা হয়েছিল। এমনকি দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ধরে মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছি। জিয়া জাদুঘরকে হেরিটেজ ঘোষণার জন্য সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
মেয়রের দাবি, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার ও ঘোষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে তার শাহাদাতের স্মৃতি সংরক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র যদি এই ইতিহাস ধারণ না করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
মেয়র আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সাংস্কৃতিকবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দ্রুত জিয়া জাদুঘরের কাজ শুরু হবে এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।’
এদিকে, জিয়া জাদুঘর সংস্কার ও সংরক্ষণের পাশাপাশি খুলশীর বধ্যভূমি সংরক্ষণ এবং বিপ্লব উদ্যানের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান মেয়র।


