মাগুরার মহম্মদপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে তাদেরকে মাগুরা জেলা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে নাফিস আহমেদ স্বাধীন (২২) এবং একই গ্রামের মোস্তফার ছেলে সিজান মাহমুদ সানি (২০)। তারা দুজনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা শাখার সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামের এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী। তিনি পাশের জেলা ফরিদপুরের জনতা জুট মিলে কাজ করেন। গত সোমবার কাজ শেষে রাত ১১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে গোপালপুর গ্রামের মেসবার ইটভাটার মোড়ে পৌঁছালে অভিযুক্ত সানি, স্বাধীনসহ একই গ্রামের রুবেল (২৫) ও সুমন (২৫) ওত পেতে থেকে তার মুখ চেপে ধরেন।
পরে তাকে জোরপূর্বক সানির মালিকানাধীন একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে চারজন মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানান।
মঙ্গলবার দুপুরে ওই নারী বাদী হয়ে মহম্মদপুর থানায় চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে সানি ও স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রধান দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বলে জানান ওসি।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুসাইন বলেন, গত বছরের এপ্রিলে মহম্মদপুর উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু কমিটির কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় কয়েকদিনের মধ্যেই তা বিলুপ্ত করা হয়। গত আট মাস ধরে সেখানে সেখানে কোনো উপজেলা কমিটি নেই। অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তিনি।


