মাগুরার ফসলের মাঠে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সেচের জন্য ডিজেল সংকটের মধ্যে কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে এই নতুন আপদ। চলতি মৌসুমে ধানের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আশঙ্কা।
গত তিন দিনে মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের শিয়ালজুড়ি গ্রামের মাঠে প্রায় ১০ একর জমির ধানে পোড়াভাব দেখা দিয়েছে। ধান পাকার এই শেষ সময়ে এসে এমন লক্ষণে অন্তত ৩০ জন কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মাঠের পর মাঠ পাকা ধানে মড়ক দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইমদাদুল ও আকবরসহ স্থানীয় চাষিরা জানান, তিন দিন আগে তারা ফসলের মাঠে ধানের শীষ ও পাতায় পোড়াভাব এবং ধানের গায়ে কালো কালো দাগ দেখতে পান। এখন তারা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী জমিতে ওষুধ ছিটাচ্ছেন।
শিয়ালজুড়ি গ্রামের আশপাশের বড় একটি অংশের ধানে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। কষ্টের ফসলের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কায় এখন গভীর হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
শিয়ালজুড়ি এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিলন মন্ডল জানান, তিনি খবর পাওয়া মাত্রই আক্রান্ত ধান ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। তিনি ধানের আগা থেকে কালো দাগ নিচের দিকে নামতে দেখেন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে পাতা ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি কৃষকদের দ্রুত ট্রুপারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দেন।
এদিকে সদরের নলদাহ ও বেনিপুরসহ বিভিন্ন মাঠের কৃষকরা জানিয়েছেন সেচের জন্য ডিজেল সংগ্রহে তাদের ভোগান্তির কথা। ডিজেলের জন্য তাদেরকে রাতের পর রাত পেট্রোল পাম্পে লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে সময়মতো জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
একদিকে তীব্র গরমে ডিজেল সংকট আর অন্যদিকে ধানের পাতা পোড়া রোগ কৃষকদের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বোরো মৌসুমে মাগুরায় ২৭ হাজার ৯০১ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। জেলায় এবার এক লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৯ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমান জ্বালানি সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।


