টাঙ্গাইলের বাসাইল ও কালিহাতী উপজেলার সীমান্তে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর প্রতীক্ষায় রয়েছেন ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও খাটরা গ্রামের এই ঘাটে কোনো পাকা সেতু নির্মিত হয়নি।
কাজেই এলাকাবাসীর নিজেদের উদ্যোগে নির্মিত জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকোটিই এখনো যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। সেই সেতুও বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাইলের ফুলকি, খাটরা, বল্লা, কাজিপুর এবং কালিহাতীর রামপুর, গান্ধিনা, তেজপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সহজ পথ এটি।
সরকারি উদ্যোগ না পেয়ে প্রায় ১২ বছর আগে গ্রামবাসী নিজেদের অর্থায়নে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বর্তমানে সাঁকোটির খুঁটি ও তক্তা পচে গিয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ এই সাঁকো দিয়ে হেঁটে চলাচল করাই কঠিন। এর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল। নদীর দুই পাড়েই রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পা পিছলে নদীতে পড়ে বই-খাতা ভিজিয়ে ফেলছে। যাতায়াত ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন, ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা হামেদ আলী মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘অনেক এমপি আইলো-গেল, কেউ এই ব্রিজ কইরা দিল না। নির্বাচন আইলে সবাই কথা দেয়, ভোট গেলে আর খোঁজ থাকে না।’
অটোরিকশাচালক আজমত আলী বলেন, ‘একবার তক্তা ভেঙে আমার গাড়িসহ নিচে পড়ে গেছিলাম। প্রতিনিয়ত জীবন হাতে নিয়ে এই পথে গাড়ি চালাই।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘খাটরা ব্রিজটি অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার প্রকল্পের প্রথম দিকের তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি শুরু হলেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, লাঙ্গুলিয়া নদীর এই অংশে ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওই প্রকল্প শুরু করতে দেরি হলে অন্য প্রকল্প থেকে এটি নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ারও পরিকল্পনা আছে।


