ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে ওই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবার।
মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন তারা।
সংবাদ সম্মেলণে বিমান দুর্ঘটনায় দুই ছেলে-মেয়েকে হারানো আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট শহীদের মর্যাদা পেয়েছেন। আমরা চাই, এই দুর্ঘটনায় নিহত সবাইকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের মর্যাদা দেওয়া হোক।’
‘এই দুর্ঘটনা শুধু আমাদের পরিবারের নয়, এটি একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি। আমরা চাই, এমন ঘটনা আর কখনও না ঘটুক’ বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, বিমান দুর্ঘটনায় অনেকেই আজীবনের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় থেকে মাত্র কয়েকটি পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি বলেও জানান তারা।
তাদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-
দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; হাইকোর্টে দায়ের করা রিট অনুযায়ী নিহতদের পরিবারকে পাঁচ কোটি এবং আহতদের পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া; আহতদের জন্য হেলথ কার্ড চালুর মাধ্যমে সিএমএইচসহ সরকারি হাসপাতালে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা; পঙ্গু ও কর্মক্ষমতা হারানো ব্যক্তিদের জন্য সরকারি চাকরি ও প্রশিক্ষণসহ পুর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
প্রতি বছরের ‘২১ জুলাই’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শোক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি পালনের জন্য ‘জাতীয় দিবস’ ঘোষণা করা; নিহতদের কবর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া, নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, পাইলট ও আয়াকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুবিধা দেওয়া এবং রাজধানীর উত্তরা এলাকায় দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে একটি আধুনিক ও স্থায়ী মসজিদ নির্মাণ করা।
চলতি বছরের ২১ জুলাই রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনের উপরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন অভিভাবক, তিনজন শিক্ষক ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ মোট ৩৭ জন নিহত হন। আহত অবস্থায় আরও নয়জন এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


