রাজধানী ঢাকার কিছু রাস্তা আপনাকে ধীরগতির করে দেবে, আবার কিছু রাস্তা আপনার সময়কে পুরোপুরি থমকে দেবে। নিশ্চিতভাবেই দ্বিতীয় কাতারে পড়ে মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়ক। রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তঃজেলা টার্মিনালটি বর্তমানে এমন এক চাপ সামলাচ্ছে, যা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা এর নেই।
প্রতিদিন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শেরপুর, জামালপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জগামী বাসগুলো এই টার্মিনালে ভিড় করে। টার্মিনালের সীমানার তুলনায় বাসের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত যানবাহনগুলো আশপাশের রাস্তায় উপচে পড়ে। ফলে সচল রাস্তাগুলো ধীরে ধীরে বাসের সারিতে স্থবির হয়ে যায়।

চালকরা রাস্তার দুই পাশে যেখানে জায়গা পান সেখানেই বাস পার্ক করেন। এতে প্রশস্ত সড়কগুলো সরু গলিতে পরিণত হয়। এই যানজটের প্রভাব তেজগাঁও এবং বনানীর মতো নিকটস্থ এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা এখন ধৈর্যের চরম পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়ী জাবির মাহমুদ নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি বহুবার মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়কটি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ছুটির দিনগুলোতেও এই রাস্তাটি কখনো যানজটমুক্ত দেখেননি।
তিনি আরও জানান, টেম্পু পার্কিং, বাসে যাত্রী তোলা এবং যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের কারণে এখানে সবসময়ই জট লেগে থাকে। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি পাম্পের সারি। ফলে তিন লেনের রাস্তাটি এখন এক লেনে পরিণত হয়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী নজরুল হামিদ গত কয়েকদিনের অসহনীয় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড হয়ে কারওয়ান বাজারে আসার সময় তিনি দেখেন তিন লেনের মধ্যে দুটি লেনই দখল হয়ে আছে। একটি লেন দখল করেছে অবৈধভাবে পার্ক করা দূরপাল্লার বাস; অন্য লেনটি দখল করেছে ফুয়েল পাম্পের সামনে থাকা গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সারি।
নজরুল হামিদ আরও জানান, শেষ পর্যন্ত বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ সব যানবাহন একটি মাত্র লেন দিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। যে পথটুকু পার হতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। তীব্র গরমে এই দীর্ঘ অপেক্ষা মানুষের জন্য আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

এটি কেবল যানজটের চিত্র নয়, বরং চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর গল্প। রুট বেড়েছে এবং শহরের পরিধি বেড়েছে। কিন্তু যাতায়াত সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আগের মতোই রয়ে গেছে। সংকীর্ণ জায়গায় গাদাগাদি করে চলার কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কয়েক দশক আগে তৈরি করা এই টার্মিনালগুলো এখনকার বড় ও দ্রুতগামী শহরের চাপ বইতে পারছে না। টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানো, পার্কিং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস না করা পর্যন্ত মহাখালী যাতায়াতের কেন্দ্র না হয়ে কেবল একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই থেকে যাবে।


