আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চিঠিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ পাঁচ দফা দাবি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিএনপি, সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, এনসিপি, জামায়াতসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে চিঠিটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। ঐতিহাসিকভাবে এসব জাতিগোষ্ঠী রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থেকেছে। তারা নিজেদের স্বকীয় শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে বহুত্ববাদী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পায়নি। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের অবসানে বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক ২৬ দফা বৈঠকের পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছর পার হলেও এর মৌলিক বিষয়সমূহ আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পার্বত্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হয়ে বরং সংঘাতময় পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী ক্রমাগত প্রান্তিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সংহত ও পূর্ণাঙ্গ করার একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া আরও গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক হবে। এই প্রত্যাশার আলোকে আমরা আপনাদের নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য সমস্যা সমাধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার তালিকার রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
সংগঠনটির দুই যুগ্ম সমন্বয়কারী মানবাধিকার কর্মী জাকির হোসেন ও অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো:
১. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
২. পার্বত্য এলাকায় সামরিক কর্তৃত্ব ও পরোক্ষ সামরিক শাসনের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে।
৩. পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে প্রতিনিধিত্বমূলকভাবে গণতান্ত্রিকীকরণ ও স্থানীয় শাসন নিশ্চিত করতে পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী যথাযথ ক্ষমতায়ন করতে হবে।
৪. পার্বত্য ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর করে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু ও ভারত থেকে প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের পুনর্বাসন করে তাদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৫. দেশের মূলধারার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে।


