পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা দীপেন দেওয়ান। এক আবেগঘন বিবৃতিতে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের জনগণকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিএনপির প্রতি নিজের অটুট আনুগত্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার পাশাপাশি ধৈর্য ধারণ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সবার। এ অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও সবার। তিনি মতপার্থক্য থাকলেও বিভেদ ও সংঘাত এড়িয়ে সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: ক্ষমতার দ্বন্দ্বেই দীপেন দেওয়ানের বিদায়
বিবৃতিতে দীপেন দেওয়ান তার রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আমার বাবা। তার আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা। আমি দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই দলের প্রতি আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট রাখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার একান্ত কামনা, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক, উন্নয়নের সুফল ভোগ করুক এবং এই অঞ্চল সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে উঠুক।’
বিবৃতির শেষাংশে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে নতুন বাংলাদেশ গঠনে তার নেতৃত্বে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


